বিমানবন্দরের সংরক্ষিত আকাশসীমা বা নো-ফ্লাই জোনে ড্রোন ব্যবহার করলে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ভিয়েতনামে সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের পর একাধিক ফ্লাইটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় প্রমাণ পাওয়া গেলে ড্রোন ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ১১ আগস্ট হো চি মিন সিটির তান সন নাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংরক্ষিত আকাশসীমায় একটি ড্রোন প্রবেশ করে। এর ফলে তিনটি ফ্লাইটকে জরুরি অবতরণ করতে হয়, ২৩টি ফ্লাইটকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়, ১৮টি ফ্লাইটকে আকাশে চক্কর দিতে হয় এবং আরও ১৬টি ফ্লাইটকে উড্ডয়নের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
এ ঘটনা বিমানবন্দর নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের জীবনের জন্য ড্রোনের ঝুঁকিকে নতুন করে সামনে এনেছে। একটি ছোট ড্রোনও উড়োজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের আকাশপথে ড্রোন দেখা গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান চলাচল বন্ধ বা সীমিত করার প্রয়োজন হতে পারে।
ভিয়েতনামে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে হ্যানয়, হাই ফং, দা নাং, খান হোয়া ও হো চি মিন সিটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে নো-ফ্লাই জোন লঙ্ঘনের অন্তত ১৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
নোই বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জরুরি কমান্ড সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, ড্রোনের উপস্থিতি শনাক্ত হলে বিমানবন্দরে আসা ও যাওয়া উভয় ধরনের ফ্লাইটই প্রভাবিত হতে পারে। আগত উড়োজাহাজগুলোকে আকাশে চক্কর দিতে হতে পারে এবং জ্বালানি শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে হয়। একই সময়ে মাটিতে থাকা উড়োজাহাজও নিরাপত্তাজনিত কারণে উড্ডয়ন করতে পারে না।
ফলে শুধু ফ্লাইট বিলম্ব নয়, বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও যাত্রী ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ফ্লাইট স্থগিত বা বিলম্বিত হলে যাত্রীদের বোর্ডিং প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত জনবল প্রয়োজন হতে পারে।
ভিয়েতনামের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বিমানবন্দরের নো-ফ্লাই জোনে ড্রোন শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ ও সতর্ক করার জন্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছে। একই সঙ্গে ড্রোন ব্যবহারকারীদের আইন ও নিরাপত্তা বিধি সম্পর্কে সচেতন করতে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের সতর্কতা, বিমানবন্দর ও নির্ধারিত উড্ডয়ন-নিষিদ্ধ এলাকায় কোনোভাবেই ড্রোন চালানো যাবে না। আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তের পর ফৌজদারি মামলা হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের লঙ্ঘনের জন্য ৩০ থেকে ১০০ মিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা এবং এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের আশপাশে এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ঠেকানো এখন বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।