আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এবার নিজেদের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নরস আটলান্টিক এয়ারওয়েজ। এ নিয়ে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা করছে নরওয়ের দীর্ঘপাল্লার কম খরচের এই বিমান সংস্থা। চুক্তি হলে দুই এয়ারলাইন্সকে সর্বোচ্চ ছয়টি বোয়িং ৭৮৭-৯ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিম্পল ফ্লাইং জানিয়েছে, নরস আটলান্টিক বর্তমানে দুই এশীয় এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সম্ভাব্য লিজ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে চুক্তির ধরন ও শর্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি ড্রাই লিজ হতে পারে, যেখানে শুধু উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে; আবার ওয়েট লিজও হতে পারে, যেখানে উড়োজাহাজের সঙ্গে ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিমা সুবিধাও যুক্ত থাকবে।
নরসের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে আর্থিক চাপ। কম নগদ মজুত, জ্বালানির বাড়তি ব্যয়, পরিচালনাগত লোকসান এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি ভারতের ইন্ডিগো নরসের ছয়টি উড়োজাহাজ নিয়ে করা ড্যাম্প লিজ চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ব্যবস্থা শেষ হওয়ার কথা।
এ অবস্থায় নতুন অংশীদার খুঁজে উড়োজাহাজগুলো লিজ দিয়ে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করতে চাইছে নরস। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পিআইএ দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাড়াতে ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। নতুন উড়োজাহাজ হাতে পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে প্রস্তুত বোয়িং ৭৮৭ লিজ নিলে দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। ইউরোপমুখী ফ্লাইট সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি পিআইএকে সুবিধা দিতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্যও সম্ভাব্য এই লিজ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও সেগুলো হাতে পেতে সময় লাগবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানোর আগ্রহ এবং বহরে উড়োজাহাজের ঘাটতি পূরণে লিজ নেওয়া একটি দ্রুত সমাধান হতে পারে।
বিমান বর্তমানে বোয়িং ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি আরও দুটি ৭৮৭-৯ এবং আটটি ৭৮৭-১০ উড়োজাহাজের অর্ডার রয়েছে। তবে বর্তমান সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নরস আটলান্টিকের সংকট অবশ্য শুধু উড়োজাহাজ লিজ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘপাল্লার কম খরচের বিমান চলাচলের ব্যবসা মডেলটি দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, উড়োজাহাজ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এবং কঠিন প্রতিযোগিতার কারণে বেশ কয়েকটি কম খরচের দীর্ঘপাল্লার এয়ারলাইন্স ব্যবসা গুটিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পিআইএ ও বিমান যদি নরসের সঙ্গে লিজ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তাহলে একদিকে দুই এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে নরস আটলান্টিকও তার আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নতুন আয়ের পথ পেতে পারে।