সৌদি রুটে বাড়ছে ফ্লাইট, কমতে পারে ভাড়া

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় দুই দেশের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য সাপ্তাহিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার সীমা ৪৯টি থেকে বাড়িয়ে ৮৪টি করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি ও সৌদি এয়ারলাইনস উভয় পক্ষই আগের তুলনায় সপ্তাহে ৩৫টি বেশি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পাবে।

১৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশি মনোনীত বিমান সংস্থাগুলো সৌদি আরবে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। একইভাবে সৌদি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বাংলাদেশেও ৮৪টি ফ্লাইটের সমান অধিকার থাকবে।

নতুন চুক্তির ফলে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগও তৈরি হয়েছে। এতে দেশের আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুটির কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে বসবাসরত লাখ লাখ বাংলাদেশি এবং ওমরাহ যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ হতে পারে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও সৌদি কর্তৃপক্ষের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতায় সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কোডশেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন, উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া এবং ফিফথ ফ্রিডম ট্রাফিক রাইটসের মতো সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ফিফথ ফ্রিডম সুবিধার আওতায় বাংলাদেশি বিমান সংস্থাগুলো সৌদি আরবকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করে স্পেন ও জার্মানিসহ অন্যান্য দেশে কার্গো পরিবহন করতে পারবে।

বেবিচকের এয়ার ট্রান্সপোর্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আজম চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্য ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে সরাসরি সৌদি ফ্লাইট চালুর সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশের আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোও উপকৃত হবে।

তবে নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে উড়োজাহাজের সংখ্যা ও বহরের সক্ষমতা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন এ কে এম আমিনুল ইসলাম জানান, আগের চুক্তিতে সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ থাকলেও বিমান বাস্তবে ২৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পেরেছে। আরও ১৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

তিনি বলেন, নতুন চুক্তি বিমানকে আরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দেবে। তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করবে বহরের আকার ও সক্ষমতার ওপর। সৌদি রুটে সারা বছরই ওমরাহ যাত্রী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কারণে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও নতুন সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। বর্তমানে তারা জেদ্দা ও রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতে মদিনা ও দাম্মামেও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, অতিরিক্ত ফ্লাইটের ফলে হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের আসন সংকট কমবে এবং ব্যস্ত মৌসুমে বিমান ভাড়ার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Comments (0)
Add Comment