১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য, আলোচনা শুরু আজ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)। মঙ্গলবার থেকে এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মঙ্গলবার তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির আংশিক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার পর নির্ধারিত সময়ে উদ্বোধন সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তবে এখনো ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে আংশিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে তৃতীয় টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইটের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। বর্তমানে ‘অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার’ বা ওআরএটি প্রক্রিয়ার প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ জাপানি কনসোর্টিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্পন্ন করবে।

আংশিকভাবে চালুর তিন থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে টার্মিনালটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। সে হিসাবে আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যে পুরো টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় স্ক্যানার স্থাপন করবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইমিগ্রেশন সুবিধাগুলোও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। আগের সরকারের সময়ে টার্মিনালটির ‘সফট ওপেনিং’ হলেও যন্ত্রপাতি স্থাপন, ওআরএটি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থগিত কাজগুলো আবার শুরু করা হয় এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

টার্মিনাল পরিচালনা থেকে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত রাজস্বের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তার মতে, বাড়তি রাজস্ব টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিএএবি ইতোমধ্যে অন্যান্য খাতের আয় থেকে ঋণের কিস্তি বাবদ প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। আগামী ডিসেম্বরে আরও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করার কথা রয়েছে। তাই তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব কীভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও জাপানি অপারেটরের মধ্যে ভাগ হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তবে বিমানের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে টার্মিনালের কার্যক্রমে যুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, যাত্রীদের ব্যাগেজ ১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ সময়সীমা মানা না হলে অপারেটরের বিরুদ্ধে সিএএবি জরিমানা করতে পারে।

তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা প্রায় চারগুণ বাড়বে। তখন দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী।

এদিকে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলেও তিনি পরিষ্কার করেছেন।

Comments (0)
Add Comment