শাহজালাল বিমানবন্দরে সাত যাত্রীর ব্যাগ থেকে বিপুল মদ জব্দ

মুম্বাই থেকে ঢাকাগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২১৮৩ ফ্লাইটে কয়েকজন যাত্রী ব্যাগেজে বিদেশি মদ বহন করছেন।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের এয়ারপোর্ট সার্কেলের সি-শিফট জানতে পারে, মুম্বাই থেকে ঢাকাগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২১৮৩ ফ্লাইটে কয়েকজন যাত্রী ব্যাগেজে বিদেশি মদ বহন করছেন। তথ্য পাওয়ার পর বিমানবন্দরে নজরদারি জোরদার করেন কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা।

ফ্লাইটটি সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে যাত্রীরা ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ব্যাগেজ সংগ্রহ করেন। এরপর সন্দেহভাজন যাত্রীরা গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁদের ব্যাগেজে তল্লাশি চালান কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা।

তল্লাশির সময় আজমল হকের ব্যাগ থেকে ১০ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। মোজাম্মেল হক ভূঁইয়ার ব্যাগ থেকে পাওয়া যায় ৭ লিটার এবং মো. ইমরানের ব্যাগ থেকে ৬ লিটার মদ। একইভাবে বাবুল মিয়ার ব্যাগ থেকে ৬ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া মো. নাফিজ সাবাতের ব্যাগ থেকে ৩ দশমিক ৫০ লিটার, আল আমিন শেখের ব্যাগ থেকে ৩ দশমিক ৫০ লিটার এবং সাদ্দাম হোসেনের ব্যাগ থেকে ৩ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সাত যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে সব মিলিয়ে ৩৮ দশমিক ৫০ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

একই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা একাধিক যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধারের ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জব্দ করা মদের বিষয়ে প্রচলিত কাস্টমস আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাত যাত্রী ব্যক্তিগতভাবে এসব মদ বহন করেছেন, নাকি এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁদের ব্যাগেজে কীভাবে এত পরিমাণ মদ আনা হয়েছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়েও যাচাই করা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে অবৈধভাবে মদসহ শুল্কযোগ্য বা নিষিদ্ধ পণ্য বহন ঠেকাতে নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Comments (0)
Add Comment