‘হ্যালো আমেরিকা’ নামে বিশেষ ফ্লাইট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রার পর বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করছে ভিয়েতনামের বিমান সংস্থা ভিয়েতজেট। বিমান পরিচালনার পাশাপাশি অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পুঁজি ও জ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন খাতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে ভিয়েতনামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর যোগাযোগ আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হো চি মিন সিটি থেকে ‘হ্যালো আমেরিকা’ নামের একটি বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে যায় ভিয়েতজেটের প্রতিনিধিদল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভিয়েতজেটের চেয়ারম্যান ড. নগুয়েন থি ফুয়ং থাও। সফরকালে তিনি তৎকালীন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা বোয়িংয়ের সঙ্গে ভিয়েতজেটের অংশীদারিত্ব এই সম্প্রসারণের অন্যতম বড় উদাহরণ। ২০১৬ সালে ১০০টি উড়োজাহাজের চুক্তি দিয়ে শুরু হওয়া সহযোগিতা ২০১৯ সালে ২০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের চুক্তিতে সম্প্রসারিত হয়। পরবর্তী সময়ে জিই, প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি, হানিওয়েল ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা গড়ে ওঠে। স্পেসএক্সের সঙ্গে উড়োজাহাজে সংযোগ প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ভিয়েতজেটের কার্যক্রম এখন শুধু উড়োজাহাজ কেনা ও পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিমান প্রকৌশল, ইঞ্জিন, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি এবং নির্গমন কমানোর প্রযুক্তিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভিয়েতনামকে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সেবার একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যও রয়েছে।
এদিকে, ভিয়েতজেটের বৈশ্বিক সম্প্রসারণে নিউইয়র্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ড. নগুয়েন থি ফুয়ং থাও নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শন করেন এবং এর চেয়ারম্যান লিন মার্টিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সমাপনী ঘণ্টা বাজানোর অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। এর মাধ্যমে ভিয়েতনামের ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আগ্রহের বিষয়টি সামনে আসে।
ভিয়েতজেটের এই উদ্যোগে সংস্কৃতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পুঁজি ও জ্ঞানকে একসঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক সম্প্রসারণ তাই শুধু নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ করপোরেশন ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব তৈরির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে।