ইরানের সব এয়ারলাইন বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিমান চলাচলের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিমান চলাচলের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের সব বিমান সংস্থার উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ইরানের বিমান অবতরণের অনুমতি দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দেশগুলোকে ইরানি উড়োজাহাজ অবতরণের অনুমতি না দেওয়া, ইরানি বিমান সংস্থার টিকিট বিক্রি না করা এবং তাদের জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

বেসেন্ট আরও বলেন, কোনো দেশ এসব নির্দেশনা না মানলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ডলারে লেনদেনের ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকেই ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা দেওয়া অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবেই নতুন এই পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইরানের বিমান শিল্পের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এর আগে তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কথাও বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকির প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচলে দেখা যাচ্ছে। ইরানের বিমান ওঠানামা নিষিদ্ধ করেছে ইরাক। দেশটির দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। জর্জিয়াও আপাতত ইরানের কোনো বাণিজ্যিক উড়োজাহাজকে দেশটিতে অবতরণের অনুমতি দিচ্ছে না।

ইরানের বিমান সংস্থা মাহান এয়ার জানিয়েছে, তুরস্ক সরকারের অনুরোধের পর তারা দেশটিতে নিজেদের বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।

ইরানের বিমান শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি। উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ধরনের বিমানসেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশটিকে বিদেশি সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে এসব ক্ষেত্রে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হুমকি নিয়ে ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একই সময়ে চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরান প্রসঙ্গ আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্দেশনা চীন কতটা অনুসরণ করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Comments (0)
Add Comment