প্রায় এক দশক পর মালয়েশিয়ার আকাশপথে আবারও ফিরতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির প্রথম হালালভিত্তিক বিমান সংস্থা রায়ানি এয়ার। তবে এবার নিয়মিত যাত্রীবাহী রুটে বড় পরিসরে প্রতিযোগিতার বদলে হজ ও ওমরাহ যাত্রী পরিবহনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। নতুন উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রায়ানি এয়ার ২.০ হালাল’।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে একটি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ উড়োজাহাজ দিয়ে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করতে পারে রায়ানি এয়ার। মূলত হজ ও ওমরাহ মৌসুমকে কেন্দ্র করে ভাড়া করা বিশেষ ফ্লাইট বা চার্টার সেবা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যবসায়িক মডেলে নির্দিষ্ট মৌসুমে বিপুলসংখ্যক মুসলিম যাত্রীকে সৌদি আরবের পবিত্র নগরীগুলোতে পরিবহনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রায়ানি এয়ার প্রথমবার মালয়েশিয়ার বিমান পরিবহন বাজারে আসে ২০১৫ সালে। সে সময় সংস্থাটি নিয়মিত অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছিল। কিন্তু কার্যক্রম শুরুর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত বিভিন্ন উদ্বেগের কারণে প্রতিষ্ঠানটির এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট স্থগিত করে। এর ফলে রায়ানি এয়ারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এবারের পরিকল্পনা আগের ব্যবসায়িক মডেলের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। নিয়মিত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী রুটে বড় পরিসরে প্রতিযোগিতা না করে শুধু মুসলিম তীর্থযাত্রীদের পরিবহনে মনোযোগ দিতে চায় সংস্থাটি। হজ ও ওমরাহ যাত্রার নির্দিষ্ট মৌসুমি চাহিদাকে কাজে লাগিয়েই নতুন ব্যবসায়িক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে এই বাজারে রায়ানি এয়ারকে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের হজ ও ওমরাহ-কেন্দ্রিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান আমালের সঙ্গে। আমাল ইতোমধ্যে বড় আকারের উড়োজাহাজ ব্যবহার করে তীর্থযাত্রী পরিবহন করছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও হজ-ওমরাহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও তাদের কার্যক্রমে সহায়ক।
রায়ানি এয়ারের নতুন করে যাত্রা এখনো চূড়ান্ত নয়। ২০২৭ সালে কার্যক্রম শুরুর আগে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সনদ নিতে হবে। ফলে পরিকল্পিত সময়ের মধ্যে ফ্লাইট শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণের ওপর।
২০১৫ সালে যাত্রার সময় রায়ানি এয়ার নিজেদের হালালভিত্তিক সেবা নীতির জন্য ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল। উড়োজাহাজে মদ ও শূকরের মাংস পরিবেশন না করা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিষয়বস্তু প্রচারের মতো নীতিও ছিল তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
প্রস্তাবিত পুনঃযাত্রা নিয়ে মালয়েশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা লেম্বাগা তাবুং হাজি এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।