নিষেধাজ্ঞার চাপেও সচল ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এখনো বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশগামী মোট ফ্লাইটের প্রায় ৭৫ শতাংশ এখনো এই বিমানবন্দর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

রোববারের ফ্লাইট সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরানি বিমান সংস্থাগুলো ১৯টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের মধ্যে অন্তত ১১টিতে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এসব রুটে মোট অন্তত ২৪টি আসা-যাওয়া ফ্লাইট ছিল। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ থাকলেও ইরানের আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি।

ইরানের চালু থাকা আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, ম্যাকাও, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। অন্যদিকে আজারবাইজান, জর্জিয়া, ইরাক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবন্দরগুলো ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে ফার্স।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বেসামরিক বিমান খাতসংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। এর মধ্যে ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন এবং দেশটির বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা করা কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানও ছিল।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরান বেসামরিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করছে। পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান ইরানকে বিমান ও সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহে সহযোগিতা করেছে বলেও অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি, জ্বালানি সরবরাহ কিংবা টিকিট বিক্রির মতো সেবাও এর আওতায় পড়তে পারে।

তবে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের বিমান যোগাযোগ এখনো সচল রয়েছে। তেহরান থেকে চীনের গুয়াংজু ও সাংহাইয়ের মতো গন্তব্যে এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। যদিও কিছু রুটে বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে।

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম এখনো চালু আছে। বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী রামিন কাশেফ আজারের দাবি, ইরানি এয়ারলাইনগুলো ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

 

তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য শুধু গন্তব্য দেশের অনুমতি নয়, মাঝপথের দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও প্রয়োজন। সম্প্রতি তুর্কমেনিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় তেহরান-দুশানবে একটি ফ্লাইট মাঝপথ থেকে ফিরে আসে। ফলে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকলেও ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আগের তুলনায় আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Comments (0)
Add Comment