ক্যালিফোর্নিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৪

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করে। দুর্ঘটনাটি ঘটে রিভারসাইড মিউনিসিপাল বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি আবাসিক এলাকায়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মুখপাত্র আইয়ান গ্রিগর জানান, স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে সেসনা ৩১০ উড়োজাহাজটি রিভারসাইড মিউনিসিপাল বিমানবন্দরের প্রায় আধা মাইল উত্তর-পূর্বে বিধ্বস্ত হয়। তবে দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ সম্পর্কে তখনও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিমানটি দুর্ঘটনার আগে হঠাৎ করে চক্কর দিতে শুরু করে। পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি আবাসিক এলাকার দুটি বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বিমানটির ভেতরে থাকা যাত্রীদের পাশাপাশি মাটিতে থাকা মানুষজনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দুটি বাড়ির একটি আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রিভারসাইড নগরীর অগ্নিনির্বাপক প্রধান মাইকেল মুরি জানান, বিমানটির যাত্রীরা রিভারসাইড থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই উড়োজাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিমানটি কেন হঠাৎ ঘুরতে শুরু করেছিল বা কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার পর জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে বিমানের ভেতর থেকে অন্তত একজন কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি থেকে আরও এক বাসিন্দাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চালানো হয়। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।

বিমান দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। উড়োজাহাজটির যান্ত্রিক ত্রুটি, পাইলটের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে। এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ নথি, উড্ডয়নের আগে আবহাওয়ার পরিস্থিতি, পাইলটের অভিজ্ঞতা এবং শেষ মুহূর্তের ফ্লাইট তথ্যও পরীক্ষা করা হবে।

Comments (0)
Add Comment