সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের কাছে লোহিত সাগরের আকাশসীমায় জরুরি সংকেত পাঠানোর পর একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার সাধারণ ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। হেলিকপ্টারটির অবস্থান এবং জরুরি সংকেত পাঠানোর কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সিকরস্কি এমএইচ-৬০আর ‘সিহক’ হেলিকপ্টারটি মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে জরুরি সংকেত পাঠায়। সে সময় এটি সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের ইয়ানবু শহরের কাছে লোহিত সাগরের ওপর দিয়ে উড়ছিল।
জরুরি সংকেত পাঠানোর পর হেলিকপ্টারটির অবস্থান আর সাধারণভাবে উন্মুক্ত ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্যের মাধ্যমে দেখা যায়নি। ফলে হেলিকপ্টারটি কোথায় রয়েছে, সেটি নিরাপদে অবতরণ করেছে কি না কিংবা কোনো ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে শুধু প্রকাশ্য ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থেকে কোনো সামরিক উড়োজাহাজের অবস্থান অদৃশ্য হয়ে যাওয়াকে দুর্ঘটনা বা হামলার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সামরিক উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক সময় অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে সীমিত বা বন্ধ রাখা হতে পারে।
এমএইচ-৬০আর সিহক মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত একটি বহুমুখী সামরিক হেলিকপ্টার। সাধারণত যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালিত এই হেলিকপ্টার নজরদারি, সমুদ্রপথে অভিযান, উদ্ধার কার্যক্রম এবং সাবমেরিন শনাক্ত ও প্রতিরোধের মতো বিভিন্ন সামরিক মিশনে ব্যবহৃত হয়।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন লোহিত সাগর ও এর আশপাশের অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এ কারণে ওই অঞ্চলে সামরিক উড়োজাহাজ ও জাহাজের চলাচল বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে।
হেলিকপ্টারটি কেন জরুরি সংকেত পাঠিয়েছিল, সংকেত দেওয়ার পর এর সঙ্গে কী ঘটেছে এবং এতে কতজন সদস্য ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে হেলিকপ্টারটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা তৈরি হতে পারে। তবে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে বা কোনো হামলার শিকার হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি। হেলিকপ্টারটির অবস্থান, আরোহীদের নিরাপত্তা এবং জরুরি সংকেতের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের দিকেই এখন নজর রয়েছে।