শাহজালালে উড়োজাহাজে আগুনের মহড়া

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি, দক্ষতা ও পারস্পরিক সমন্বয় যাচাই করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ—ফায়ার-২০২৬’।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি, দক্ষতা ও পারস্পরিক সমন্বয় যাচাই করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ—ফায়ার-২০২৬’। সোমবার বিমানবন্দর এলাকায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

মহড়ায় একটি কল্পিত উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এতে অগ্নিনির্বাপণ, যাত্রী উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং আহত ও নিরাপদ যাত্রীদের নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অনুশীলন করা হয়। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থা কীভাবে দ্রুত সমন্বিতভাবে কাজ করে, সেটিও পরীক্ষা করা হয়।

মহড়ার কল্পিত দৃশ্যপটে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে ঢাকাগামী একটি উড়োজাহাজে ৯৮ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। অবতরণের আগে উড়োজাহাজটির ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন এবং কন্ট্রোল প্যানেলে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়। বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানানো হলে উড়োজাহাজটিকে জরুরি অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়।

জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ের নির্ধারিত অংশ অতিক্রম করে বাম দিকে ছিটকে যায়। পরে ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে গিয়ে থামে। এরপর উড়োজাহাজটির নিচের অংশে আগুন ধরে তা দ্রুত পুরো উড়োজাহাজে ছড়িয়ে পড়ার কল্পিত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।

খবর পাওয়ার পর বিমানবন্দরের ফায়ার ক্রুরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। যাত্রীদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

মহড়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনার পর জরুরি প্রতিক্রিয়া কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, তা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে ফায়ার ক্রুদের দক্ষতা, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয় সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।

মহড়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও শাহজালাল বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অংশ নেয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে মহড়া প্রত্যক্ষ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, বিমান চলাচলে নিরাপত্তা, প্রস্তুতি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাস্তবভিত্তিক মহড়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরুরি মহড়া আয়োজন করা হয়। মহড়া শেষে বিভিন্ন কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ মহড়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে শাহজালাল বিমানবন্দরের জরুরি ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Comments (0)
Add Comment