সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ১০৩টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রভাবিত ১০৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪২টি সরাসরি এবং ৬১টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৮টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইটের কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে ভারতের ইন্ডিগোর ২২টি ফ্লাইট। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে শুধু সরাসরি সৌদি আরবগামী যাত্রীই নন, বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ফ্লাইটের সময়সূচি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন কিংবা চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালিত হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব গন্তব্যের সব বিমানবন্দরে একই ধরনের প্রভাব পড়েনি।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এতে এসব গন্তব্যে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপ্তাহের শুরুতে ফ্লাইট চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ চলছে।
এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সময়সূচিও পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত তথ্য যাচাই এবং বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি।