হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে জাপানি কনসোর্টিয়াম। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে চুক্তির শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় টার্মিনালের আয় থেকে ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম, আর বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ। পাশাপাশি আগামী ১৫ বছর শাহজালাল বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞার শর্তও রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা বা জাইকা প্রায় ২১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগে শেষ হলেও পরিচালনার দায়িত্ব চূড়ান্ত না হওয়ায় টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
চুক্তির অন্যতম আলোচিত শর্ত হলো ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা না করা। এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ১৫ বছর। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে একটি রানওয়ে রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ নগরায়ণের কারণে দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের সুযোগও সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে এই শর্ত রাজধানীর আশপাশে বিকল্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও বড় বিষয় সামনে এসেছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ। আংশিকভাবে টার্মিনাল চালুর সময় বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ আরও কম হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উড়োজাহাজ অবতরণ ফি, ওভারফ্লাইং চার্জ, নিরাপত্তা, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের মতো সার্বভৌম কার্যক্রম বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এদিকে তৃতীয় টার্মিনালে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন এবং যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন। এদের মধ্য থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিং বিমানের দায়িত্বেই থাকবে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও ফ্লাইট পরিচালনার দক্ষতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে রাজস্ব ভাগাভাগি এবং বিকল্প বিমানবন্দর পরিচালনা নিয়ে শর্তগুলো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।