সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবরের হুতি হামলায় আহত আরও এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (৪ নভেম্বর) মারা যান শেখ সাঈদ। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন।
সৌদিতে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস বুধবার এক বিবৃতিতে শেখ সাঈদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রিয়াদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সৌদিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রী বিপুল এক বিবৃতিতে শেখ সাঈদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার সময় গুরুতর আহত হন শেখ সাঈদ। এরপর তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে ভারতীয় দূতাবাস শোকাহত।
শেখ সাঈদ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের নিজামাবাদ জেলার বাসিন্দা ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। তার দুই ভাইও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কর্মরত রয়েছেন। শেখ সাঈদের মৃত্যুর খবর পরিবারের সদস্যদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, শেখ সাঈদের দুই ভাই এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়া সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, স্ত্রী, ছোট ছোট সন্তান, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের এই কঠিন সময়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা জানানো হচ্ছে।
এদিকে পরিবারের অনুরোধ অনুযায়ী, রিয়াদেই শেখ সাঈদের জানাজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। এ কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে ভারতীয় দূতাবাস। তার মরদেহ দেশে পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে একই হামলায় আহত ভারতের হায়দরাবাদের ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া কেরালার আরেক ভারতীয় নাগরিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হন। শেখ সাঈদের মৃত্যুর পর এ ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা ১৪ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের নাগরিক রয়েছেন। হামলার ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের সহায়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।