হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে টার্মিনালের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ এখনও শুরু করতে পারেনি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। এরই মধ্যে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৭ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই ব্যয় বৃদ্ধি এবং দরপত্র জটিলতায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন’ নামে প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল টার্মিনালের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করা। পাশাপাশি যাত্রীদের উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি, দুর্বল নেটওয়ার্ক, কল ড্রপ ও ধীরগতির ইন্টারনেট সমস্যা দূর করা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইনস, ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা।
সরকারি অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে ব্যয় বাড়িয়ে ৭৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে প্রায় ২৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ বিষয়ে অনুমোদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে টেলিটক।
এদিকে গত ২২ জুলাই মূল নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৭ সেপ্টেম্বর দরপত্র জমা ও খোলার নির্ধারিত দিন ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু করে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নে ধীরগতির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে নেতৃত্বে। গত ২৮ অক্টোবর প্রকল্প পরিচালক এবং টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের জিএম (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. আনোয়ার হোসেনকে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
প্রকল্প পরিচালক ও টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রথমবার কোনো দরদাতা না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু না হলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জরিপসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও জানান, বর্ধিত বাজেটের অনুমোদন না পাওয়ায় মূল কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার আশা করছেন তারা। এ অবস্থায় ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।