যাত্রী সংকটে ধুঁকছে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর

দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে ক্রমেই কমছে যাত্রীসংখ্যা।

দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে ক্রমেই কমছে যাত্রীসংখ্যা। যাত্রী সংকটের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকটি অভ্যন্তরীণ বিমান রুট প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বরিশাল রুটে ফ্লাইট চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। অন্যদিকে যশোর রুটেও ফ্লাইটের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে এক থেকে দুটিতে। একসময় এই রুটে উড়োজাহাজের আসন ব্যবহারের হার প্রায় ১০০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ শতাংশে। তুলনামূলক বেশি বিমান ভাড়া এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগকে যাত্রী কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে যশোর, বরিশাল, রাজশাহীর শাহ মখদুম ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ধারাবাহিকভাবে যাত্রী কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে যশোর বিমানবন্দরে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে যশোর বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছিলেন প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার যাত্রী। দুই বছর পর সেই সংখ্যা কমে ৯২ হাজার ২০০-এর কিছু বেশি হয়। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে যাত্রীসংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৪৪ হাজারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় অর্ধেক।

বরিশাল বিমানবন্দরেও পরিস্থিতি আরও নাজুক। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই বিমানবন্দরে যাত্রীসংখ্যা ছিল প্রায় ৫৮ হাজার। পরবর্তী দুই বছরে তা অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যাত্রী কমেছে ৬৫ শতাংশ। এ সময়ে মাত্র ৮ হাজার ৭০০ যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যশোর ও বরিশাল রুটে যাত্রী কমার অন্যতম কারণ পদ্মা সেতুর প্রভাব। ২০২২ সালের জুনে পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। ফলে কম সময়ে এবং তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক যাত্রী বিমান ছেড়ে সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন।

একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও। দুই বছর আগে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর দিয়ে বছরে দেড় লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করলেও সর্বশেষ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২০০ জনে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যাত্রী কমেছে ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে একই সময়ে যাত্রী কমেছে ১৯ শতাংশ।

তবে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। হযরত শাহজালাল, শাহ আমানত, ওসমানী ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে আগের যাত্রী সংকট কাটিয়ে চলাচল বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত দেশের বিমানবন্দরগুলোতে মোট ১ কোটি ৫৮ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশের বেশি যাত্রী ব্যবহার করেছেন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিমান রুটগুলো সচল রাখতে বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, সময়সূচি পুনর্বিন্যাস এবং যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা জরুরি। অন্যথায় আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Comments (0)
Add Comment