৪ মার্চ সহকারী সচিব আব্দুর রশিদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য জ্বালানি তেল জেট এ-১ এর অধিকাংশ বিপিসির আওতাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি এবং বাকি তেল বৈদেশিক বিভিন্ন স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। বিমানের সর্বমোট ব্যয়ের ৪২ শতাংশ উড়োজাহাজের জ্বালানি তেল কিনতে খরচ হয়। তাই বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি লিটারে দশমিক ০১ ডলার পরিবর্তন হলে বার্ষিক প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের ওপর ভ্যাট আরোপের ফলে তেলের দাম বেশি হওয়ার কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই উড়োজাহাজের তেলের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে দাম কিছুটা কমতো। এর ফলে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত স্টেশনগুলো জ্বালানি মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য থাকতো। এটি করলে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান অধিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পেত।
পদ্মা অয়েল থেকে ভ্যাটসহ প্রতি লিটার জ্বালানি তেল ১ দশমিক ০৭ ডলারে কিনতে হয়। কিন্তু অন্যান্য বৈদেশিক স্টেশন থেকে ৩০ শতাংশ কম দামে অর্থাৎ দশমিক ৮২ ডলারে কেনা সম্ভব। মূল্যের এ পার্থক্যের কারণে বছরে ২৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ফলে বিমানকে লাভজনক করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী স্টেশন যেমন ব্যাংকক, দুবাই, হংকং এবং কলকাতায় তেলের দাম সস্তা হওয়ায় বিদেশী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সগুলো ওই সব জায়গা থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করতে উৎসাহিত হচ্ছে। এ জন্য বিমানবন্দরগুলো ব্যস্ত বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
কলকাতায় প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের মূল্য দশমিক ৮২৮৭ ডলার। এ কারণে বিদেশী অধিকাংশ এয়ারলাইন্সগুলো কলকাতা স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ ও ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অথচ সব ধরনের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ার কারণে এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট পরিচালনাসহ ফ্রিকোয়েন্সি বাড়াতে উৎসাহিত হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বিমানের জ্বালানি তেলের ওপর ভ্যাট মওকুফ চেয়ে বিমান মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।