কাজ প্রায় শেষ, তবু বাড়ল তৃতীয় টার্মিনালের ব্যয়

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। নির্মাণকাজের ব্যয় ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং পরামর্শক সেবার ব্যয় ৪০৫ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রকল্পটির ব্যয় আরও বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নির্মাণকাজের ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেষ হওয়ার কথা জানানো হলেও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টার্মিনালের নির্মাণ চুক্তির ব্যয় প্রায় ২০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে নির্মাণ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, প্রকল্পের পরামর্শক সেবার ব্যয় বেড়েছে আরও উল্লেখযোগ্য হারে। এ খাতে মূল চুক্তিমূল্য ছিল ৭৭২ কোটি টাকা। নতুন করে ৪০৫ কোটি টাকা বাড়ানোর ফলে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায়। মূল চুক্তির তুলনায় এ বৃদ্ধি ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

এদিকে, তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণকাজের ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন করতে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধনের পর মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় ও সময়—দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে পরিবর্তন এসেছে।

তবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে আংশিক চালুর পরিকল্পনা এবং পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা এক নয়। প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তৃতীয় টার্মিনালকে দেশের বিমান চলাচল খাতের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এর নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, পরামর্শক সেবায় অতিরিক্ত ব্যয় এবং বারবার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করে যাত্রীদের জন্য টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Comments (0)
Add Comment