অনলাইন কেনাকাটায় দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ।
অনলাইনে কেনাকাটায় গত কয়েক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড প্রকাশিত এক সূচকে অগ্রগতির এ চিত্র ফুটে উঠেছে।
এতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় আর দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর মধ্যে দশম অবস্থানে রয়েছে। আঙ্কটাডের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বিজনেস টু কমার্স (বিটুসি) ই-কমার্স ইনডেক্স ফর-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান সবার উপরে। দেশটির অবস্থান ৮০তম। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৮৮তম। এছাড়া শ্রীলংকা ৯৩তম, ভুটান ১১২, নেপাল ১১৫, পাকিস্তান ১১৭ এবং আফগানিস্তান ১৩৬তম। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ভারত নবম ও বাংলাদেশ দশম।
অনলাইনে কেনাকাটার বৈশ্বিক এ সূচকে ১৫১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৮তম। গত বছর ১৪৪ দেশের মধ্যে ১০৩তম অবস্থানে ছিল। বাংলাদেশের স্কোর এবার আগের বছরের চেয়ে ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪৬ দশমিক ৩ হয়েছে।
এ র্যাংকিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ড। সিঙ্গাপুর ১৬ ধাপ উপরে উঠে দ্বিতীয় অবস্থানে এসেছে। উন্নয়নশীল দেশে এবং এশিয়ার মধ্যে সিঙ্গাপুর প্রথম অবস্থানে। প্রতিবেদনমতে, অনলাইনে ব্যবসায় শীর্ষ ১০ দেশের আটটিই ইউরোপে।
র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০ দেশের সূচক পয়েন্ট খুবই কাছাকাছি। প্রথম ও দশম দেশের মধ্যে পয়েন্ট পার্থক্য শুধু চার। ২০১৭ সালে তালিকায় নেদারল্যান্ডসের অবস্থান ছিল তৃতীয়। এবার শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে লুক্সেমবার্গ। ডাক নির্ভরযোগ্যতা সূচকে পিছিয়ে পড়ায় দেশটি বাদ পড়েছে। আঙ্কটাডের টেকনোলজি অ্যান্ড লজিস্টিক বিভাগের পরিচালক শামিকা এন. সিরিমানি বলেন, চারটি সূচক পয়েন্টে নেদারল্যান্ডস শীর্ষে রয়েছে। বিশেষ করে সার্ভার নিরাপত্তার সূচকে ১৫১ দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো দেশটি।
তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্য। নরওয়ে ও সুইডেন আছে যথাক্রমে পঞ্চম ও অষ্টম অবস্থানে। আইসল্যান্ড ষষ্ঠ, আয়ারল্যান্ড সপ্তম, নিউজিল্যান্ড নবম ও ডেনমার্ক আছে দশম অবস্থানে। তালিকায় আর সবচেয়ে নিচের অবস্থানে আছে আফ্রিকার দেশ নাইজার।
চারটি বিষয় বিবেচনা করে অনলাইন ব্যবসার জন্য প্রস্তুত শীর্ষ দেশগুলোর এ সূচক তৈরি করে আঙ্কটাড। এগুলো হচ্ছে- ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনসংখ্যার হার, ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে হিসাব থাকা জনসংখ্যার হার, নিরাপদ ইন্টারনেট সার্ভার এবং ডাক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা। এসব বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২০১৭ সালের তথ্য নেয়া হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকম ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আঙ্কটাডের গত বছরের সূচকেও বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনসংখ্যার হার একই ছিল।
১৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষের মধ্যে ব্যাংক হিসাব থাকার হারের তথ্য নেয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ডাটাবেজ থেকে। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের ৫০ শতাংশের ব্যাংক হিসাব রয়েছে। আগের হিসাবে এ হার ছিল ৩১ শতাংশ। মূলত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের কারণে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ এগিয়েছে।