কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
প্রথমবারের মতো কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নতুন বিমান কিনে অথবা ভাড়া নিয়ে এই সার্ভিস চালু করা হবে। কার্গো সার্ভিসের বাজার , রুট নির্ধারণ ও পরিচালন ব্যয় সার্বিক বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সম্প্রতি ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে আকাশপথে পণ্য পরিবহন খরচ কমবে। কার্গো পরিবহনের বাজার ধরতে সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্গো ব্যবস্থাপনাও অটোমেশনের তাগিদ তাদের।
শুধু কার্গো বা পণ্য পরিবহনের জন্য আলাদা কোন উড়োজাহাজ নেই বিমানের। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ডে সীমিত পরিমাণে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিশাল বাজার থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারছেনা বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে ৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহন করে বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলো। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে আলাদা কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিমান। এ ব্যাপারে বিমানকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি।
শাকিল মেরাজ (মহাব্যবস্থাপক, জনসংযোগ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, কি কি ধরণের অনুদান দরকার, তার ফ্রিকোয়েন্সি কি হবে তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্তে যাব।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিমান কার্গো সার্ভিস চালু করলে সাশ্রয়ী ভাড়ায় পণ্য পরিবহনে করা যাবে। বাঁচবে বৈদেশিক মুদ্রা। তবে এই সার্ভিস লাভজনক করতে সঠিক রুট নির্ধারণ ও কার্গো ব্যবস্থাপনার অটোমেশন চান তারা।
২০১৭ -১৮ অর্থবছরে বিমান কার্গো পরিবহন করেছে ৩২ হাজার ৬৬৭ মে. টন। এ খাতে আয় করেছে ২৪৫ কোটি টাকা। পৃথক কার্গো ফ্লাইট চালু করলে আয় অনেক বাড়বে প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।
সম্প্রতি বিমানের দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার হংসবলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিমানকে কার্গো ফ্লাইট চালুর পরামর্শ দেন।