কার্গো এক্সপোর্ট ইমপোর্ট খাতে দুর্নীতি: বিমানের আয়ের একটি বড় খাত হলো কার্গো সার্ভিস। কিন্তু এই খাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কোটি কোটি টাকা এয়ারওয়ে বিল কম পাচ্ছে। অনেক সময় বিমানের কার্গো সার্ভিসের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী আমদানি/রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগসাজশে ওজনে কম দেখায়। আবার কখনও একক পরিবর্তন করে (টন কে সিএফটি, সিএফটি কে টন) কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের ওজন ও ভলিয়ম রেকর্ডভিত্তিক কম দেখিয়েও বেশি পরিমাণ মালামাল বিমানে উঠানো হয়। এই অতিরিক্ত টাকা আমদানি/রপ্তানিকারকের সাথে ভাগাভাগি করে আত্মসাৎ করা হয় ।
যাত্রী খাতে দুর্নীতি: ট্রানজিট প্যাসেঞ্জার ও লে-ওভার প্যাসেঞ্জারের হিসেব এদিক-সেদিক করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। প্রতিদিন ট্রানজিট প্যাসেঞ্জারের সংখ্যা যতজন হয়, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশী দেখিয়ে খাবারের বিল করে অতিরিক্ত টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। লে-ওভার প্যাসেঞ্জারদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী হোটেলের প্রতি রুমে একজন রাখার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রতি রুমে ৪/৫ জন রাখা হয়। আর বিল তৈরি করা হয় জনপ্রতি। অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্যাসেঞ্জারদেরকে খাবার ও হোটেল দেয়া হয় না, কিন্তু যথারীতি বিল করে অর্থ উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করা হয়।
অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাত : যাত্রীরা অনেক সময় অতিরিক্ত ব্যাগেজ নিয়ে বিমানে উঠেন। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যাগেজের জন্য যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত চার্জ গ্রহণ করে তা মূল হিসাবে না দেখিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। অন্যদিকে যাত্রীদের বুকিং ট্যাগ এবং ফ্লাইট ডিটেইলে অতিরিক্ত ওজন প্রদর্শন করা হয় না। এতে আরও দ্ইু ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়। প্রথমত, কোন যাত্রীর ব্যাগ মিসিং হলে তিনি ট্যাগ না থাকার কারণে অতিরিক্ত ওজনের অংশের ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিন হন। দ্বিতীয়ত, ফ্লাইট ডিটেইলে সঠিক ওজন ইনপুট না দেয়ার প্রেক্ষিতে ফ্লাইট মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকে।
টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে দুর্নীতি : প্রায়ই বাংলাদেশ বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না। এমনকি অনলাইনেও টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ বাস্তবে বিমানের আসন খালি যায়। এক্ষেত্রে অন্যান্য এয়ারলাইন্স এর সাথে যোগসাজশে অন্য এয়ারলাইন্সকে টিকিট বিক্রির সুবিধা করে দেয়া হয়। বিনিময়ে বিমানের কর্মকর্তারা কমিশন নিয়ে এসব কাজ করে থাকে। আলোচ্য খাতে ফ্ল্যাসবেগের সুযোগ থাকায় অনিয়ম বেশি হয়। সাধারণত নিয়োজিত এজেন্ট ফ্ল্যাসবেগের মাধ্যমে আসন ব্লক করে রাখে। পরে অনেক টিকিট বিক্রি না হওয়ার কারণে আসন খালি যায় এবং বিমান রাজস্ব অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশ বিমান অন্যান্য এয়ারলাইন্সের তুলনায় এজেন্টদেরকে কম কমিশন দেয়ার কারণেও এজেন্টরা বিমানের টিকেটের পরিবর্তে অন্য এয়ারলাইন্সের দেয়া বেশি কমিশনে টিকেট বিক্রিতে আগ্রহী হয়। বিমানের আসন খালি নেই বলে যাত্রীদের ভুল তথ্য দিয়ে অন্য এয়ারের টিকিট কিনতে প্রভাবিত করে থাকে।
ফুড ক্যাটারিং খাতে দুর্নীতি: নিন্মমানের খাবার পরিবেশনের কারণে অনেক দেশী বিদেশী বিমান বিএফসিসিথেকে খাবার না নেওয়ায় বাংলাদেশ বিমান কেবল বিএফসিসি খাতেই কোটি কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকাস্থ নামী দামী হোটেলসমূহে বিএফসিসি থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার খাবার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। আত্মসাৎকৃত অর্থ বিএফসিসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও পেয়ে থাকেন। ফলে এসব খাতে কোন নজরদারী নেই। তাছাড়া বিএফসিসিতে আন্তর্জাতিক মানের শেফ নেই। ফলে রান্নার গুনগত মান ভাল নয়।