আবগারি শুল্ক পরিশোধে গড়িমসি রিজেন্ট এয়ারওয়েজের

আবগারি শুল্ক পরিশোধে গড়িমসি রিজেন্ট এয়ারওয়েজের।

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বেসরকারি খাতের রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। প্রতিষ্ঠানটির কাছে গত বছরের শেষ ছয় মাসে আবগারি শুল্ক বকেয়া পড়েছে সাড়ে ৯ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া চলতি বছর আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা বকেয়া পড়ে গেছে। টিকিট বিক্রির সময় যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত নিয়মে এ শুল্ক আদায় করা হলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্র জানায়, আকাশপথে যাত্রাকালে বিমান সংস্থাগুলো টিকিট বিক্রির সময় যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার-নির্ধারিত হারে আবগারি শুল্ক বা এক্সাইজ ডিউটি কেটে রাখে। এই অর্থ পরবর্তী মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বেসরকারি রিজেন্ট এয়ারওয়েজের (এইচজি এভিয়েশন) বিরুদ্ধে একাধিকবার সময়মতো এ শুল্ক পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠে।
সূত্রমতে, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ চট্টগ্রামভিত্তিক হাবিব গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথিষ্ঠানটির কাছে বকেয়া আবগারি শুল্ক হিসেবে ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা পাওনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সদরঘাট সার্কেলের। এর মধ্যে জুলাই মাসে পাওনা ছিল এক কোটি ৯৯ লাখ ৩৩ হাজার ৫০ টাকা, আগস্টে এক কোটি ৯৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, সেপ্টেম্বরে এক কোটি ৬৪ লাখ সাত হাজার টাকা, অক্টোবরে এক কোটি ৯২ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা, নভেম্বরে এক কোটি ৯৬ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং ডিসেম্বরে দুই কোটি ১৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা। তবে এসব পাওনার বিপরীতে মাত্র একবার দুই কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ১২ কোটি টাকার বেশি বকেয়া পড়ে গেছে।

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রামের কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কাছে এ পর্যন্ত ১২ কোটি টাকার অধিক পাওনা আছে। এ পাওনা পরিশোধে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তারা আবগারি শুল্কের টাকা পরিশোধ করছে না। বেশ কয়েকবার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু রিজেন্ট এয়ারওয়েজ বকেয়া পরিশোধে গড়িমসি করছে। উল্টো পাওনা বেড়ে চলছে। অথচ বিমানযাত্রীদের কাছ থেকে তারা ঠিকই শুল্ক আদায় করছে, কিন্তু তা জমা করছে না। তবে এভাবে চলতে থাকলে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর আমরা আইনানুসারে ব্যবস্থা নেব।
কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, অভ্যন্তরীণ ও সার্ক রুটে বিমানভ্রমণ খাতে যাত্রীদের ওপর ৫০০ টাকা এবং সার্কের বাইরে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য দুই হাজার টাকা আবগারি শুল্ক ধার্য রয়েছে। আর ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিমানভ্রমণের ক্ষেত্রে এই শুল্ক বাবদ যাত্রীদের পরিশোধ করতে হয় তিন হাজার টাকা, যা টিকিট ক্রয়ের সঙ্গে নগদে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করে বিমান সংস্থাগুলো। কিন্তু আদায় করা টাকা নির্দিষ্ট সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও রিজেন্ট এয়ারলাইনস কখনোই তা ঠিকমতো জমা দেয়নি, যা প্রতিষ্ঠানটির অক্ষমতা, না গড়িমসি, তা বুঝতে পারছি না। এটাও শুনেছি, তাদের নগদ প্রবাহ সংকট থাকায় এ টাকা ব্যয় করে ফেলেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলেন, বেসরকারিভাবে বিমান পরিচালনা করা অনেক ব্যয়বহুল ও পুঁজিঘন ব্যবসা, যা হাবিব গ্রুপের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। গ্রুপটির অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে বিনিয়োগ এবং ব্যাংক ঋণে পরিচালিত রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কার্যক্রম। উড়োজাহাজ ব্যবসায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় প্রত্যাশিত রিটার্ন না পাওয়ায় আর্থিকভাবে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে হাবিব গ্রুপকে। এ কারণে কর্মী সংকোচন, ফ্লাইট কমানোসহ নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এছাড়া সময়মতো আবগারি শুল্ক পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আবার হাবিব গ্রুপের অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পাওনা পরিশোধেও ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানার জন্য রিজেন্ট এয়ারওয়েজের (এইচজি এভিয়েশন) চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। পরে তার অফিসে গিয়ে একাধিকবার যোগযোগ করা হলে তিনি অফিসে আসেননি বলে জানান দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।
রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চিফ অপারেশন অফিসার (সিওও) আশীষ রায় চৌধুরীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। আমি এখন বাইরে আছি। অফিসে গিয়ে ফোন করব।’ পরে ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। এমনকি এসএমএস দেওয়া হলেও তিনি উত্তর দেননি।
উল্লেখ্য, বেসরকারি বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে। এর পর থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একে একে ব্যবসা সম্প্রাসরণ করে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ঢাকা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ব্যাংকক, দোহা, কলকাতা, কুয়ালালামপুর, মাস্কট ও সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

শেয়ার বিজ ডট নেট

Comments (0)
Add Comment