চলতি বছরের অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দরটির উদ্বোধন করবেন। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে এবং উদ্বোধনের পর এখান থেকে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
সোমবার সচিবালয়ে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন ‘এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ’ বা এটিজেএফবির সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। এ সময় তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ বর্তমানে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অক্টোবরেই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এরই মধ্যে কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইনস কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও চলছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে পর্যটননির্ভর কক্সবাজারের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সরাসরি আকাশ যোগাযোগ স্থাপনের পথ আরও সহজ হবে।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে দেশের পর্যটন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের কক্সবাজারে আসা সহজ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল-মোটেল, পর্যটনকেন্দ্রিক পরিবহন এবং অন্যান্য সেবাখাতেও কার্যক্রম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ডিসেম্বর মাসে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী ও বিমান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান উন্নত করে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন এবং সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।