বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইটের ভাড়া

বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইটের ভাড়া।

ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইটের ভাড়া বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিকরা। বিষয়টি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। আগামীকাল এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। এতে রুটগুলোয় চলাচলরত ফ্লাইটগুলোর যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় কমে গেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইটের ভাড়া বেড়েছে। আর এতে বিপাকে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিকরা। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটের ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে আনতে বিমানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, ফ্লাই দুবাই ও ওমান এয়ার বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে এসব রুটে সাপ্তাহিক যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা কমেছে প্রায় এক হাজার জন। পাশাপাশি ওমরাহ যাত্রীর সংখ্যাও এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে আগের তুলনায় দ্বিগুণ। ফলে ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন গন্তব্যে (যেমন জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা, দুবাই, দোহা, বাহরাইন, মাস্কাট, কুয়েত, শারজা) চলাচলরত এয়ারলাইনসগুলোর আসন সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এ কারণে এসব রুটে ভাড়া বেড়েছে প্রায় দুই-তিন গুণ।
জানা গেছে, সৌদি আরবে বর্তমানে ২১ লাখ বাংলাদেশী কর্মরত। এছাড়া ইউএইতে প্রায় ১২ লাখ, কুয়েতে এক লাখ, ওমানে ছয় লাখ, কাতারে তিন লাখ, বাহরাইনে এক লাখ এবং লেবানন ও জর্ডানে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছেন। আসন্ন ঈদে এদের অনেকেই ছুটি কাটাতে দেশে আসার পরিকল্পনা করছেন। এ অবস্থায় এসব রুটে আসন সংকট আরো বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে আটাবের সভাপতি এসএন মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমিক যাত্রীরা। দ্বিগুণ টাকা খরচ করেও তারা অনেক সময় ফ্লাইটে সিট পাচ্ছেন না। যথাসময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পেরে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত শ্রমিকদের ভ্রমণ বেড়ে যাবে। চলমান ওমরাহ ও আগামী হজসহ নানা কারণে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভ্রমণযাত্রীর সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে বাড়বে। ফলে এসব রুটে আসন সংকট আরো তীব্র হবে।
তবে এ সংকট দীর্ঘায়িত হবে না বলে দাবি এয়ারলাইনসগুলোর। বিষয়টি নিয়ে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) সোহেল মাজিদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য রুটে আসন সংকটের বিষয়টি সাময়িক। ওমরাহ যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় সৌদি রুটে চাপ বেড়েছে। আর ওমান ও কাতার হঠাৎ করেই শ্রমিক নিয়োগ বৃদ্ধি করেছে, যার প্রভাব পড়েছে দোহা ও মাস্কাট রুটের ফ্লাইটে। তবে এ দুই রুটে যাত্রীর চাপ এপ্রিলের পর আর থাকবে না। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে দোহা রুটে গতকাল সাপ্তাহিক ফ্লাইট আগের তুলনায় আরো দুটি বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়েছে।
জানা গেছে, দেশী এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বর্তমানে দোহাগামী চারটি, দুবাইগামী সাতটি, কুয়েতগামী সাতটি, দাম্মামগামী সাতটি, রিয়াদগামী সাতটি, জেদ্দাগামী ১০টি, মাস্কাটগামী সাতটি ও আবুধাবিগামী সাতটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতি সপ্তাহে দোহাগামী তিনটি ও মাস্কাটগামী ছয়টি ফ্লাইট এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজ দোহায় ছয়টি ও মাস্কাটে সাতটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় পরিচালনাধীন এয়ারলাইনসগুলোও বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এয়ারলাইনসগুলো সপ্তাহে সর্বাধিক ৭৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বাংলাদেশে। এছাড়া কাতার এয়ারওয়েজ ২৯টি, কুয়েত এয়ারওয়েজ ১২টি ও সাউদিয়া এয়ারলাইনস ৩১টি সাপ্তাহিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
আসন সংকটে ভাড়া বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নজরে রেখেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, আগামীকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বৈঠক রয়েছে। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটের আসনস্বল্পতা ও অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিএমইটি থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন কর্মী কাজ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান, যা ২০১৭ সালে ছিল ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫।

Comments (0)
Add Comment