‘বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাই এগিয়ে রাখবে অস্ট্রেলিয়াকে’

‘বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতাই এগিয়ে রাখবে অস্ট্রেলিয়াকে’

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে কখনও নেতৃত্ব দেবেন, এটা স্বপ্নেও কল্পনা করেননি অ্যারোন ফিঞ্চ। কিন্তু ঘটনাচক্র তাকে বিশ্বকাপের মত গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টেই এনে বসিয়েছে নেতৃত্বের আসনে। একই সঙ্গে দলে পেয়েছেন তিনি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা অভিজ্ঞ ডেভিড ওয়ার্নার আর স্টিভেন স্মিথকে।

বিশ্বকাপের আগে ভারত এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ জয়ের কারণে অনেকেই অস্ট্রেলিয়াকে ভাবছেন ফেবারিট। কিন্তু যাদের নিয়ে ভাবনা, সেই অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারোন ফিঞ্চই মনে করছেন, বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগে এখনও তাদের অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি রয়ে গেছে। সেই প্রশ্নগুলোর সমাধান বিশ্বকাপ শুরুর আগেই করে নিতে চান তিনি।
যদিও এবারের বিশ্বকাপে ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে ২০১৫ বিশ্বকাপজয়ী দলের ৬ জনকে পাচ্ছেন তিনি। যাদের অভিজ্ঞতাই এবারের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দিতে পারে বলে বিশ্বাস তারা। তাদের হাত ধরেই আবার বিশ্বকাপটা ধরে রাখতে পারবেন বলে মনে করেন ফিঞ্চ।

ব্রিসবেনে নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ঘরের মাঠে তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প সম্পন্ন করেছে। শেষ ম্যাচে স্টিভেন স্মিথ ৯১ রানে অপরাজিত থাকেন। একই সঙ্গে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৭০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস উপহার দেন। প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরই অস্ট্রেলিয়ানরা তুরস্কের বিমান ধরেন। গন্তব্য দেশটির শহর গালিপলি। ২০০১ সালে স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বাধীন এশেজের দলও একই স্থানে সফর করতে গিয়েছিল। গালিপলি থেকেই লন্ডনে পৌঁছাবে তারা। এরপরই ফিঞ্চরা মাঠে নামবে চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য। ১ই জুন ব্রিস্টলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ মিশন।

অধিনায়ক ফিঞ্চসহ দেশের মাটিতে ২০১৫ সালে বিশ্বকাপজয়ী দলের ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল স্টার্ক এবং প্যাট কামিন্স। যে কোনো দ্বি-পাক্ষিক সিরিজের চেয়ে বিশ্বকাপ একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা এবং সেটা একজন খেলোয়াড়র ক্যারিয়ারের ভিত গড়ে দেয় বলে মনে করেন ফিঞ্চ।

‘আপনার জন্য এটা জানা খুবই স্বস্তির একটা ব্যাপার যে, তারা (বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড়রা) জানে, কিভাবে একটা বিশ্বকাপ জিততে হয় এবং কিভাবে এ যাত্রাটা সবাই মিলে অতিক্রম করতে হবে। আপনাকে সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং পাশাপাশি ভুলের মাত্রাটাও কমাতে হবে। গত বিশ্বকাপজয়ী দলের এ ছয়জনের অভিজ্ঞতা তাই দলকে অনেক এগিয়ে রাখবে’- বলেন ফিঞ্চ।

স্মিথ এবং ওয়ার্নারনে নিয়েও উচ্চসিত ফিঞ্চ। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তারা দলের সাথে আছেন, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। তারা নিজেদের প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছেন এবং এটা আমাদের জন্য দারুণ খবর।’

অস্ট্রেলিয়া এবারের বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ফেবারিট নয় খুব একটা; কিন্তু তারা গত কয়েক মাসের তুলনায় বর্তমানে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। এর মাঝে রয়েছে সর্বশেষ ভারত এবং পাকিস্তানের সাথে টানা ৮ম্যাচ জয়। স্মিথ এবং ওয়ার্নারের কামব্যাকে দলে ব্যাটিং পজিশন আরো শক্তিশালী হয়েছে, যদিও বোলিং ফরমেশন এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত করা হয়নি।

ব্রিসবেনে তারা তিন ম্যাচে তিন ওপেনিং পার্টনার দিয়ে ম্যাচ ওপেন করিয়েছে এবং ব্যাটিং অর্ডারে রদবদল করেছে। যার দরুন উসমান খাজা এবং শন মার্শের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। অধিনায়ক ফিঞ্চ মনে করেন, ‘সবাইকে সমান ভাবে সুযোগ করে দেয়াটাই আসল লক্ষ্য।’ ওপেনিং নিয়ে যে আরো গবেষণা হবে তা ফিঞ্চের কথাতেই স্পষ্ট। বিশ্বকাপের আগে ৩টি প্রস্তুতি ম্যাচে সর্বশেষ চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে বলে জানিয়েছেন ফিঞ্চ। টুর্নামেন্টে তারা সেরা জুটিকেই খেলাবেন এবং এরজন্য সবাইকে আরও খানিকটা অপেক্ষা করাতে চান ফিঞ্চ।

ব্রিসবেনে চলা অনুশীলন ক্যাম্পে ওপেনিং জুটির একমাত্র ফিঞ্চই অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন। অপরদিকে ওয়ার্নার তার আইপিএলের দুর্দান্ত ফর্ম এখানে নিতে পারেননি। স্টিভেন স্মিথ সর্বশেষ ২ম্যাচে দৃষ্টিনন্দন ২টি অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়েছেন।

স্মিথ সম্পর্কে ফিঞ্চ বলেন, ‘সে তার আগের ছন্দ ফিরে পেয়েছে। যেন তারা কখনো দলের বাইরে ছিল না। এরকম একটি কঠিন উইকেটে তার ড্রাইভগুলো, বিটুইন দ্য উইকেট রানিং, মিডল ওভারগুলোয় রান বাড়ানো এবং যেভাবে ইনিংস গড়ে দিয়েছে, সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সে আসলেই একজন সেরা খেলোয়াড় এবং তার ফর্মে ফেরাটা আমাদের জন্য দারুন খুশির খবর।’

স্মিথ পাশাপাশি অধিনায়ক ফিঞ্চকে নানা পরামর্শও দিয়েছেন এবং সাবেক অধিনায়কের পরামর্শের উপর দল নির্ভর করে বলেও খুশি ফিঞ্চ। এছাড়া ওয়ার্নার এবং অ্যালেক্স ক্যারেকেও নানা দিক নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে স্মিথকে।

ফিঞ্চ বলেন, স্মিথ এবং ওয়ার্নার দুজনেই বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড় এবং তাদেরকে দলে পাওয়াটা যে কোন দলের জন্যই অনেক বড় সুবিধা। এ ছাড়া পুরো দলের প্রশংসা করেন ফিঞ্চ। ছেলেরা দুর্দান্ত ছিল এবং সবাইকে সাথে নিয়ে বিশ্বকাপে ভাল কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী ফিঞ্চ।

Comments (0)
Add Comment