বিমানের ফিটনেসবিহীন পাইলট দিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট!
এবার মেডিকেল আনফিট (অসুস্থ) পাইলট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ বিমানের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিমানের যে ফ্লাইটটি লন্ডন গেছে ওই ফ্লাইটের একজন পাইলট ছিলেন মেডিকেল আনফিট। তার নাম ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরী। তিনি বিমানের সেফটি বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনাটি ফাঁস হয়ে পড়ার পর তিনি সোমবার তড়িঘড়ি করে বিমানের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. তাসলিমার কাছে যান ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য। কিন্তু সিএমও পেছনের তারিখে সার্টিফিকেট দিতে রাজি হননি। এ ঘটনায় কয়েকজন পাইলট সিএমও অফিসে গিয়ে হইচই করেন। এ নিয়ে বিমানজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরীকে ১৪ জুলাই সকালে ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইট করার জন্য স্ট্যান্ডবাই পাইলট হিসেবে সিডিউল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আগের দিন রাতে সিডিউল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শোয়েব চৌধুরী নিজেকে অসুস্থ ঘোষণা করে লন্ডন ফ্লাইটে যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। ওইদিন রাতে আরও দুই পাইলটও রহস্যজনকভাবে নিজেদের অসুস্থ ঘোষণা করে লন্ডন ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবেন না বলে জানান। নিয়ম অনুযায়ী অসুস্থ (সিক) ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাইলট নিজকে ফিট ঘোষণা করতে পারেন। এজন্য কোনো ধরনের মেডিকেল সার্টিফিকেটের দরকার হয় না। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেই তাকে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বাধ্যতামূলক ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হয়। বিমানের প্রধান ডাক্তারের (সিএমও) পরামর্শ অনুযায়ী এই মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরী ফিটনেস সার্টিফিকেট না নিয়েই তথ্য গোপন করে ১৯ জুলাই সকালে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট নিয়ে লন্ডন যান।
বিমানের সিএমও অফিস সূত্রে জানা গেছে, তাদের জানা মতে ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরী ১৪ জুলাই থেকে অসুস্থ। এ কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তাকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে পারবেন না বলে তারা শোয়েব চৌধুরীকে জানিয়ে দিয়েছেন।
তবে শোয়েব চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি শারীরিক সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই ভিভিআইপি ফ্লাইটে গেছেন। এ বিষয়ে জানতে সোমবার রাতে সিএমও ডা. তাসলিমাকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। জনসংযোগ বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তাহেরা খন্দকার টেলিফোনে বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন তবে নিশ্চিত না হয়ে তিনি বলতে পারবেন না। নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে আজ অফিস খোলা পর্যন্ত সময় দিতে হবে বলেও জানান।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে সিএমও অফিস থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট না পেয়ে শোয়েব চৌধুরী ডিএফও অফিসের মাধ্যমে নিজেকে একদিনের সিক ঘোষণার কাগজপত্র তৈরি করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ জানান, অন্যের জন্য গর্ত করতে গিয়ে ওই গর্তে নিজেই পড়ে গেছেন ওই পাইলট। যেখানে সবার ফিটনেস নিয়ে চিফ অব সেফটিকে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতে হয় সেখানে তিনি নিজেই সেফটি আইন ভঙ্গ করেছেন। তাছাড়া বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইট নিয়ে পাইলটদের আরও সতর্ক থাকা উচিত বলেও তিনি মনে করেন। এর আগে পাসপোর্ট ছাড়াই ফজল মাহমুদ নামে একজন পাইলট প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট আনতে গিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। একই সঙ্গে একজন অনভিজ্ঞ পাইলটকে (ফাস্ট অফিসার) দিয়েও প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে বিমানের বিরুদ্ধে।
সূত্রঃ যুগান্তর