আটক পাঁচ বাংলাদেশি হলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার জয়নাল আবেদীন, আক্কেল আলী, ফারুক হোসেন, মাহাবুব হোসেনও রুবেল মিয়া। নাবির বহর গ্রামের হতভাগ্য ৬ যুবককে মোটা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করে দেয় স্থানীয় আদম ব্যবসায়ীরা। রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ওই চক্রের নেপথ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘ ছয়মাস পর দেশে ফিরে আসে পাচার হওয়া ছয় জনের মধ্যে একজন হাবিব।
এই কয়েক মাসে অনাহার, অর্ধাহার, নির্মম নির্যাতনে শুকিয়ে গেছেন তিনি। হাবিব জানান, দালাল চক্র ব্রুনাইয়ের একটি জঙ্গলে নিয়ে কাঠের ঘরে আটকে রাখে তাদের। কাজ না দিয়ে বরং তাদের অন্য দালালের কাছে বিক্রয়ের চেষ্টা করতে থাকে। দিনের পর দিন কর্মহীন জীবন তাদের হতাশায় ডুবিয়ে দেয়।
শনিবার কালিয়াকৈরের নাবিরবহর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে যেন আকাশ ভারি হয়ে উঠেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আক্কেল আলীর স্ত্রী লালবানু জানান, তার কোলে থাকা শিশুর জন্য অন্যের বাড়ি থেকে দুধ পর্যন্ত
চেয়ে খাওয়াতে হচ্ছে।
ফুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাকিরুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি এরকম ছয় জনের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টা তদন্ত করে দেখছি। তবে এখন পর্যন্ত আমি যা শুনেছি তা হৃদয়বিদারক। পাচার হওয়া মানুষগুলোকে খাবারও দেয়া হচ্ছে না।
তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা না হলে তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।