শাহজালাল বিমানবন্দরে এটিসির রেডিও ব্যবস্থায় ত্রুটি।
উড়োজাহাজ উড্ডয়ন, অবতরণ থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছাতে আকাশপথে চলাচলে প্রতিটি মুহূর্তে পাইলটকে সহায়তা করে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)। রেডিও’র মাধ্যমে সার্বক্ষণিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে উড়োজাহাজে সংযুক্ত থাকেন পাইলটরা। বাংলাদেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উড্ডয়ন-অবতরণের অনুমতি প্রদানকারী এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের রেডিও’তে ক্রুটি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ দিনের পুরাতন রেডিও ব্যবস্থা প্রায় সময় পাইলটের সঙ্গে এটিসি’র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কখনও কখনও কথোপকথন পরিস্কার শুনতে সমস্যার মুখে পড়ছেন পাইলট ও এয়ার ট্টাফিক কন্ট্রোলাররা। ফলে যে কোন সময় দূর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। পাইলট ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, হজরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টার্মিনাল ভবনের উত্তর পাশেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার। এই টাওয়ারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা রাত দিন রেডিও’র মাধ্যমে সার্বক্ষণিক উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টারের পাইলটদের চলাচলে নির্দেশনা দেন। বাংলাদেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ, আবহাওয়ার তথ্য প্রদান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উড্ডয়ন-অবতরণের অনুমতি, বিমানবন্দরের গ্রাউন্ডে চলাচল, পার্কিং এ বিষয়গুলোর ভিত্তিতে আলাদা আলাদা রেডিও চ্যানেলের মাধ্যমে এয়ার ট্টাফিক কন্ট্রোলাররা পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এদিকে পুরাতন রাডার সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত শনিবার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার কারণে পুরোপুরি রেডিও ব্যবস্থার উপর নির্ভর থাকতে হয় ।
অন্যদিকে বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক জনবল সঙ্কট রয়েছে। জনবল সংকট, পুরাতন রাডার, দুর্বল রেডিও সিস্টেমের কারণে বাড়তি চাপে থাকতে হচ্ছে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে বেবিচকের সাবেক পরিচালক (এটিএস এন্ড এরোড্রামস) নুরুল ইসলাম বলেন, রাডার, রেডিও সহ অনেক যন্ত্রাপাতি পুরাতন হয়ে গেছে। এ কারণে প্রায় সময় সমস্যার সৃষ্টি হয়। দেশের আকাশে বিমান চলাচলও বেড়েছে, ফলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের যান্ত্রিক ক্রটি হলে বাড়তি চাপের মধ্যে থাকতে হয়। বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, হজরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টার্মিনাল ভবনের উত্তর পাশেই এয়ার ট্টাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে ধরণ অনুসারে একাধিক রেডিও চ্যানেলে উড়োজাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে উড়ে যাওয়া উড়োজাহাজগুলোকে গতিপথ, আবহাওয়ার তথ্য ‘ঢাকা টাওয়ার’ কল সাইনে ১২৫ দশমিক ৭ মেগাহার্ডজে ও ১১৮ দশমিক ৩ মেগাহাডর্জে নির্দেশনা দেন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে চাইলে ‘ঢাকা অ্যাপ্রোচ’ কল সাইনে ১২১ দশমিক ৩ মেগাহার্ডজ যুক্ত হয়ে এয়ার ট্টাফিক কন্ট্রোলারদের অনুমতি নিতে হয় পাইলটদের। বিমানবন্দরে অবতরণের পর রানওয়ে থেকে কোন পথে গিয়ে উড়োজাহাজ কোন বোডিং ব্রিজে রাখা হবে ওই তথ্য ‘ঢাকা কন্ট্রোল’ কল সাইনে ১২১ দশমিক ৮ মেগাহার্ডজে নির্দেশনা দেন কন্ট্রোলাররা। একই রকম ভাবে কোনপথে দিয়ে উড়োজাহাজ যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নের জন্য রানওয়েতে যাবে সেই নির্দেশনাও দেয়া হয়। কয়েকটি এয়ারলাইনসের পাইলট জানান, প্রায় সময়ই এটিসি টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। প্রায় সময় আমাদের মেসেজ টাওয়ারের কন্ট্রোলাররা শুনতে পান না, আবার কখনও আমাদের কথা টাওয়ারের কন্ট্রোলাররা শুনতে পান না। প্রথমে ভেবেছিলাম উড়োজাহাজের রেডিও সিস্টেমের সমস্যা কিন্তু পরে বুঝতে পারি সমস্যা টাওয়ারের। দ্রুত রেডিও সিস্টেমের সমস্যা দূর করা জরুরি। কারন টাওয়ারের নির্দেশনা পরিস্কার শুনতে না পেলে পাইলট ভুল করে দূর্ঘটনায় মুখে পড়তে পারেন। এ প্রসঙ্গে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, বিমান চলাচলের জন্য নেভিগিয়েশন ও কমিউনিকেশন বর্তমান যুগে অটোমেটেড হয়ে গেছে। ওই ধরণের সিস্টেম আমরাও ইনকর্পোরেট করার চেস্টা করছি। আমরা সহসাই এয়ার ট্টাফিক ম্যনেজমেন্ট সিস্টেম যার সঙ্গে রাডার, নেভিগিয়েশন, কমিউনিকেশন সিস্টেম ইন্ট্রিগ্রেটেড থাকে। যে হারে এয়ার ট্রাফিক বাড়ছে, এটাকে কন্ট্রোল করতে হলে অটোমেটেড সিস্টেম দরকার। সরকারের অনুমোদনের সহসায় ইন্ট্রিগেটেড হবে। এর মাধ্যমে আমাদের বিমান চলাচল ব্যবস্থা অনেক নিরাপদ হবে। এর সুফল আগামী বছরের মধ্যে দেখা সম্ভব হবে।