বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০১ মিলিয়ন ডলার (৮০০ কোটি টাকা) লুণ্ঠন একটি বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদস সম্মেলনে দলটির নির্বাহী সদস্য তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটি হ্যাকিং নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল ডাকাতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অথরাইজ পারসন বা সুইফট সিস্টেমের পাসওয়ার্ড ব্যবহারকারী কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলেই রিজার্ভ চুরির রহস্য উদঘাটন হবে।’ মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা ফিলিপাইন ও শ্রীলংকায় স্থানান্তরের ঘটনার ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, হ্যাকিং একদিনে করা সম্ভব হয় না। যদি হ্যাকিং হয়ে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের এলার্ট পাওয়ার কথা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে ভয়াবহ নিরাপত্তা সঙ্কট রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘ফায়ার আই’-এর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে তাদের আমলেই হ্যাকিং হয়েছে। এখন আবার তাদের সুপারিশে আরেকটি কোম্পানিকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সূচনা বক্তব্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসটিনি কেলেঙ্কারির পর রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। এ ছাড়া টাকা চুরির ঘটনায় জড়িতদের তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি। প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই রিজার্ভ চুরিতে যারা বেনিফিশিয়ার, সেই ফিলিফাইনে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে, সিনেটে শুনানি হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশ নীরব। এই নীরবতার কারণ কি? তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এম এ মান্নান, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ প্রমুখ।