পরমাণু অস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টারত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে যে হুমকি বিরাজ করছে তা বাস্তব বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ ধরনের হামলা ‘আমাদের বিশ্বকে পরিবর্তন’ করে দেবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত পরমাণু নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিন শুক্রবার এসব কথা বলেন তিনি। ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। পরমাণু সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে বিশ্ব ‘দৃঢ়’ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) পরমাণু অস্ত্র সংগ্রহ করলে তা ‘বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য অন্যতম বড় হুমকি হয়ে দেখা দেবে’। এই সম্মেলন উপলক্ষ্যে ওয়াশিংটনে জড়ো হওয়া বিশ্ব নেতারা উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি এবং সম্মেলনে রাশিয়ার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরমাণু অস্ত্র হ্রাসের ব্যয় রাশিয়া তার সামরিক বাহিনী সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহার করছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওবামা। ইউক্রেইন ও সিরিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার সময় ওয়াশিংটনের প্রভাবাধীন এই সম্মেলনে যোগ দিতে রাজি হননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওদিকে লাহোরে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনার পর পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন। রাশিয়া ও পাকিস্তান, এই দুটি দেশই পরমাণু অস্ত্রে সমৃদ্ধ। সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত নেতারা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন বিশ্বের বিভিন্ন অংশকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি তুলে ধরেন ওবামা। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ ইতিমধ্যে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেন্ট্রাল ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চলতি বছরের কোনো এক সময় পরমাণু অস্ত্রমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব অগ্রগতি সত্বেও ভারতীয় উপমহাদেশ এবং কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে এখনও অনেক কিছু করার আছে বলে মন্তব্য করেছেন ওবামা। সিরিয়ায় আইএস ইতিমধ্যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে জানিয়ে ওবামা বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই, এ ধরনের উন্মাদ মানুষের হাতে যদি একটি পরমাণু বোমা বা পারমাণবিক উপদান গিয়ে পড়ে তাহলে তারা যত বেশি পারা যায় মানুষকে হত্যা করতে নিশ্চিতভাবে তা ব্যবহার করবে।’ তিনি বলেন, ‘পরমাণু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর একমাত্র এবং প্রথম রক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে এই উপাদানের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেন এটা কোনো ভুল ব্যক্তির হাতে গিয়ে না পড়ে।’ ভাষণে ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু চুক্তিকেও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ইরান চুক্তির সবগুলো ধারাই মেনে চলেছে। বিশ্ব-অর্থনীতিতে পুনরায় যুক্ত হওয়া ইরানকে কিছু সময় দেওয়ার জন্য ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।