দিল্লীর কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগে তোলপাড়

এভিয়েশন নিউজ: ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর ড. নাহিদ রশীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও সরকারী অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তোলপাড় উঠেছে ভারতের বাংলাদেশ হাই কমিশনে। বিবৃতবোধ করে ইতোমধ্যে হাইকমিশন থেকে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। রহস্য উদঘাটনে মন্ত্রনালয় একজন যুগ্ম সচিবকে দিয়ে ১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ভারতে গিয়ে অভিযোগ তদন্ত করলেও রহস্যজনক কারণে এখনো রিপোর্ট জমা দেয়নি।

অভিযোগ উঠেছে এই সুযোগে মন্ত্রনালয় ও হাই কমিশনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুরো অনিয়ম-দুর্নীতিটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভারতে গিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার আতিথিয়েতা গ্রহন করেছেন। যার কারণে হাই কমিশন থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সব ধরনের অনিয়ম ও অর্থ লোপাট সংক্রান্ত ডকুমেন্ট প্রদান করলেও তিনি সেগুলো রিপোর্ট আকারে প্রকাশ করছেন না।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সুত্রে জানা গেছে অভিযুক্ত কমার্শিয়াল কাউন্সিলর ড. নাহিদ রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হাই কমিশনে যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন বিল-ভাউচার জাল জালিয়াতি ও ঘাষামাঝা করে সরকারের বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

জানা গেছে ড. নাহিদ রশিদের মেয়ে নাহরীন ফাতিমা নিউ দিল্লীতে অবস্থিত দিল্লী পাবলিক স্কুল ইন্টারণ্যাশনাল স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। স্কুল সুত্রে জানাগেছে নাহরীন ফাতিমার মাসিক বেতন ১১ হাজার টাকা। কিন্তু ড. নাহিদ রশীদ জালিয়াতির মাধ্যমে স্কুলের ভুয়া বিল ভাউচার তৈরী করে হাই কমিশনের কোষাগার থেকে বেতন উত্তোলন করছে মাসিক ৬৫ হাজার ৯শ টাকা করে।

এছাড়া যোগদানের পরপরই তিনি মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো নতুন বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন। কোন অনুমতি কিংবা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে আগের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের জন্য নির্ধারিত বাড়িটি ছেড়ে দেন। একই সঙ্গে দ্বিগুন বেশি দামে একটি বাড়ি ভাড়া করেন।

আগের বাড়িতে যেসব আসবাবপত্র ছিল সেগুলো ফেলে দিয়ে সরকারের বিপুল অংকের টাকা গচ্চা দিয়ে নতুন আসবাবপত্র ক্রয় করেন। এই ক্ষেত্রেও তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কোন অনুমোদন নেননি। বাংলাদেশ হাই কমিশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ড. নাহিদ রশীদ হাই কমিশন ও মন্ত্রনালয়ের কাউকে পরোয়া করেন না। কথায় কথায় তিনি নিজকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা হিসাবে পরিচয় দেন।

নিজেকে সাবেক সচিবের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে পুরো হাই কমিশনকে তটস্থ করে রাখেন। এই ভয়ে হাই কমিশনের কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না। তিনি যোগদানের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যও ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। হাই কমিশনের ওই কর্মকর্তা জানান, ভারতে কমাশিয়াল কাউন্সিলরের পুরনো বাড়িটি ছিল খুবই ভাল।

ওই বাড়িতে যেসব আসবাবপত্র যেমন পর্দা, খাট, পালং, ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশন সব কিছু ছিল নতুন। কিন্তু ড. রশীদ এসব পরিবর্তন করে সরকারের অনুমোদন ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো ঠিকাদার নিয়োগ করে নতুন ক্রয় করেছে। এখন তিনি ওই ঠিকাদারের টাকা পর্যন্ত দিতে পারছেন না। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিদিন টাকার জন্য হাই কমিশনে ধর্না দিয়েও টাকা পাচ্ছেন না।

জানা গেছে নতুন আসবাবপত্র ক্রয় করায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা গচ্চা গেছে সরকারের। সম্প্রতি ভুবেনেস্বরে মেলার নামেও নানা কেলেংকারীর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, মেলায় ৯২৬ কেজি মালামাল পরিবহনের কথা থাকলেও কাগজপত্রে ২ হাজার ৯২৬ কেজি মালামাল পরিবহন দেখিয়ে ট্রাক ভাড়া বেশি দেখিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে। তবে এই ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে সে বিল আটকে দিয়ে হাই কমিশনার।

এদিকে মন্ত্রনালয়ের একটি সুত্র জানায় ড. নহিদ রশীদের এসব অপকর্মের তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ এর আওতায় একটি সংবাদপত্রে পক্ষ থেকে সব ধরনের ডকুমেন্টসহ দরখাস্ত দিলেও গত দুই মাসেও সে দরখাস্তর কোন জবাব দেয়নি মন্ত্রনালয়। উল্টো মন্ত্রনালয় থকে তাকে বাচানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে একটি সুত্রে জানা গেছে।

এদিকে আমাদের দিল্লী অফিস সুত্রে জানা গেছে, টাকা না দেয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তার টাকা দাবি করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এছাড় হঠাৎ করে বিনা নোটিশে বাড়ি ছেড়ে দিয়ে আর্থিকভাবে পুরনো বাড়িওয়ালাকে ক্ষতিগ্রন্থ করায় তিনিও সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে জানাতে চান। ইতোমধ্যে বাড়িওয়ালার পক্ষ থেকে একটি চিঠি বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে এভিয়েশন নিউজের পক্ষ থেকে ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর ড. নাহিদ রশীদের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ল্যান্ডফোনে যোগাযোগ করা হলে হাইকমিশন থেকে জানানো হয় তিনি সিটে নেই। এদিকে ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে তথ্য অধিকার আইনে এ সংক্রান্ত তথ্য জানতে মেইল পাঠানো হলেও তার কোন রিপ্লাই পাওয়া যায়নি।

BANGLADESH-HIGH-COMMISSION-NEW-DELHIঅভিযোগঅর্থদিল্লী
Comments (0)
Add Comment