প্লেনের মধ্যে কোথায় স্বাস্থ্যবিধি, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

বন্ধ ছিল ৬৬ দিন। তারপর, বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ফের শুরু হল অন্তর্দেশীয় যাত্রিবাহী বিমান চলাচল। আর প্রথম দিনই যাত্রীদের একটা বড় অংশ বিমানের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি শিকেয় উঠেছে বলে অভিযোগ করলেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে যাত্রীদের দূরে রাখতে বিমানবন্দরের ভিতরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন না- উঠলেও যাত্রীদের অনেকেরই বক্তব্য, বিমানের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য, ৪ হাজার টাকার টিকিট ৭-১০ হাজার টাকায় কেটেও বিমানে তিন জন যাত্রীকে পাশাপাশি বসানো হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, এর পর কী করে ভাববেন যে, তাঁদের সংক্রমণের ঝুঁকি নেই?

এ দিন দিল্লি থেকে কলকাতায় আসা একটি বিমানের বছর ৪৫-এর এক পুরুষ যাত্রীর করোনা-উপসর্গ থাকায় তাঁকে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিমানবন্দর সূত্রে খবর, ওই যাত্রীর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বলে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ে ধরা পড়েছে। সেই জন্য তাঁকে রাজারহাটের কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই বিমানে ছিলেন লোকসভার কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। ওই বিমানের সব যাত্রীকেই আগামী ১৪ দিন ঘরবন্দি বা হোম কোয়ারান্টিনে থাকার কথা বলা হয়েছে।

বিমানের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না, এই অভিযোগ করার পাশাপাশি বহু যাত্রী শোনালেন, লকডাউনের জেরে কী সমস্যায় তারা পড়েছিলেন এবং এই দীর্ঘ সময়টায় কী ভাবে লড়াই চালিয়েছেন।

গত ১৭ মার্চ স্ত্রী ও সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে দিল্লি বেড়াতে গিয়েছিলেন যাদবপুরের সমর দত্ত। লকডাউনে আটকে পড়েন। দু’সপ্তাহ হোটেল খরচ চালানোর পর আর পকেট সায় দেয়নি একটি সংস্থায় বিপণন বিভাগে কর্মরত ওই ব্যক্তির। এর পর তাঁর দিন কখনও কেটেছে এক বন্ধুর বোনের বাড়িতে, কখনও রামকৃষ্ণ মিশন কিংবা দিল্লি কালীবাড়ি, মসজিদ-সহ বিভিন্ন জায়গায়। এ দিন কলকাতায় নেমে সমর সখেদে বলছিলেন, ‘২১ হাজার টাকা ধার করে বিমানের টিকিট কেটেও তো নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছি না। গোটা বিমান জুড়ে পর পর তিন জনের বসার ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ করব, বিমানের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

একই ক্ষোভ কৃষ্ণনগরের যুবক, মুম্বই থেকে ফেরা প্রতাপ মণ্ডলের কথাতেও। মহারাষ্ট্রের একটি রেস্তোরাঁয় তিনি কাজ করতেন। সেই রেস্তোরাঁ দু’মাস যাবৎ বন্ধ। মালিক থাকা-খাওয়ার খরচ জোগালেও বিমানের ভাড়া দেননি। প্রতাপের কথায়, ‘এক পরিচিতর কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা ধার করে বিমানের টিকিট কাটলাম। কিন্তু বিমানে যে দু’জনের পাশে বসে এলাম তাঁরা করোনায় সংক্রামিত নন, তার গ্যারান্টি কোথায়?

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বিমানের টিকিট বিক্রির সময়ে কোন আসন কার, তা বোঝা যায় না। এই সমস্যা ঠেকাতে শীঘ্রই পদক্ষেপ করা হবে বলে তাঁদের আশ্বাস।

এ দিন বেলা ১১টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা গেল, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, লাউঞ্জে ঢোকার মুখেই যাত্রীদের ব্যাগে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজারও রয়েছে। মুখে মাস্ক এবং মোবাইলে আরোগ্য সেতু অ্যাপ থাকলে তবেই থার্মাল গান দিয়ে যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। যাঁরা প্রত্যেকেই পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে রয়েছেন। এর পর স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে স্ক্যান করানোর পর সিআইএসএফের কিয়স্কে ঢুকছেন যাত্রীরা। সেই কিয়স্কও কাচে ঢাকা।

কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী বা সিআইএসএফের অফিসার ও কর্মীরা সচিত্র পরিচয়পত্র ও টিকিট পরীক্ষা করার পরেই যাত্রীদের বিমানে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বোর্ডিংয়ের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের বসার জন্য যে চেয়ার রয়েছে, সেখানেও দাগ কেটে সামাজিক দূরত্ব বিধি কার্যকর করা হয়েছে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্য, কলকাতা বিমানবন্দরে নামা সব যাত্রীর আলাদা করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। রাজ্য পরিবহণ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, যাত্রীদের বাড়ি ফেরার জন্য বিমানবন্দর চত্বরে ৫০টি সরকারি বাসের ব্যবস্থা ছিল। তবে অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি বা অ্যাপ ক্যাবে করে বাড়ি ফিরেছেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.