বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাবে বাংলাদেশি কর্মীরা
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর নতুন কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বর মাসে শুরু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর নতুন কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বর মাসে শুরু করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। নতুন ব্যবস্থায় কর্মীদের কোনো খরচ ছাড়াই বিদেশে পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রথম দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের প্রবাসী মিলনায়তনে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী এফডব্লিউসিএমএসে তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এ মাসে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর প্রথম দুই থেকে তিনটি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে নতুন কার্যক্রম শুরু করতে চান তারা। পাশাপাশি বিদেশি নিয়োগকর্তাদের অন্যান্য চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেও কর্মী পাঠানো অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রী জানান, নতুন ব্যবস্থায় বিদেশে কর্মী পাঠানোর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে বিদেশি নিয়োগকর্তা অথবা তাদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে কর্মীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না। কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য কিছু সার্ভিস চার্জও বাদ দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ নির্দিষ্ট কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে কর্মী পাঠানোর ব্যবসায় অংশ নিতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র অনলাইনে জমা দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন থাকতে হবে। পাশাপাশি কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামা সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে।
বিদেশে যাওয়ার পর কর্মীরা যেন বিভিন্ন সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে আলাদা সেল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এর বেশি অর্থ আদায় করা যাবে না। নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অনিয়মের কারণে পুরো জনশক্তি রপ্তানি খাতের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না। কর্মীদের বিদেশের আইনকানুন মেনে চলার বিষয়েও সচেতন করতে হবে।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।