বিমান চলাচলে বাড়ল জ্বালানি ব্যয়

দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ব্যবহৃত উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট এ–১-এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ব্যবহৃত উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট এ–১-এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জন্য প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত অক্টোবরে এই জ্বালানির দাম ছিল প্রতি লিটার ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়বে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই নতুন দামে জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত এই মূল্য বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের জন্যও জেট এ–১ জ্বালানির নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ১৬৩৭ মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত এই মূল্যের সঙ্গে কোনো শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) যুক্ত থাকবে না।

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত প্রতি লিটার ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা মূল্যের মধ্যে শুল্ক ও মূসক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে পৃথক হিসাব পদ্ধতি অনুসরণ করেছে কমিশন।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে নতুন এই মূল্য কার্যকর হবে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যশোর বিমানবন্দরেও একই মূল্য প্রযোজ্য হবে। ভবিষ্যতে দেশে নতুন কোনো বিমানবন্দর চালু হলে সেখানেও নির্ধারিত এই মূল্যহার কার্যকর হবে।

কমিশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ–১ জ্বালানির দামের পরিবর্তন এবং জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে গত ৫ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ–১ জ্বালানির গড় মূল্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্রের অর্থ পরিশোধে ডলারের বিনিময় হারও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে উড়োজাহাজের জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত প্ল্যাটস রেট অনুসরণ করে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উড়োজাহাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে জ্বালানি অন্যতম প্রধান পরিচালন ব্যয়। ফলে জেট এ–১-এর দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন মূল্যবৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের বিমান ভাড়ায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু জানানো হয়নি।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.