ফ্লাইট না থাকলেও ১৮ উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণে বিমানের ব্যয় মাসে ২৬৬ কোটি টাকা

করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের সংগে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় উড়োজাহাজগুলোর পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ফলে লোকসানে চলছে সংস্থাটিতে। তার আগেও বড় দুরত্বে রুট না থাকায় উড়োজাহাজগুলো পুর্ণ মাত্রায় চালানো যাযনি।

মার্চ থেকে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রুটের ফ্লাইট। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বহরে যুক্ত করা উড়োজাহাজগুলোকে বিমানবন্দরে বেকার বসিয়ে রাখতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ফ্লাইট চলুক আর না চলুক, উড়োজাহাজগুলো রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে ঠিকই ২৬৬ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংস্থার বহরে উড়োজাহাজ রয়েছে মোট ১৮টি। এর মধ্যে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে সরাসরি কেনা হয়েছে ১২টি। এর মধ্যে ৪১৯ আসনের লম্বা দূরত্ব পাড়ি দিতে সক্ষম বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ রয়েছে চারটি। ২০১১-১৪ তিন বছরের মধ্যে উড়োজাহাজগুলো বিমানবহরে যুক্ত হয়।

পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে যুক্ত হয় ১৬২ আসনের দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও ২৭১ আসনের ছয়টি বোয়িং ৭৮৭ ‘ড্রিমলাইনার’ উড়োজাহাজ। বাকি ছয়টি উড়োজাহাজের মধ্যে চারটি ৭৩৭-৮০০ ও ৭৪ আসনের দুটি ড্যাশ-৮ লিজে আনা হয়েছে। বর্তমানে এসব উড়োজাহাজের জন্য কেবল রক্ষণাবেক্ষণেই বিমানকে প্রতি মাসে গুনতে হচ্ছে ২৬৬ কোটি টাকা।

শুধু উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ নয়, এর বাইরেও প্রতি মাসে লিজে আনা ছয়টি উড়োজাহাজের জন্য ৯৮ কোটি টাকা, বোয়িং থেকে কেনা উড়োজাহাজের কিস্তি বাবদ ৭০ কোটি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও দেশ-বিদেশের অফিস রক্ষণাবেক্ষণে আরো ২০৩ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। যদিও বিমানের টিকিট বিক্রি, কার্গো পরিবহন ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বাবদ আয় এখন একেবারেই শূন্য। এ অবস্থায় মারাত্মক আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইনসটি।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা  জানান, নভেল করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে গত তিন মাসে বিমান অন্তত ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। অন্যদিকে নিয়মিত ব্যয় চলছেই। বিষয়টি এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মীদের ওভারটাইম ভাতা বাতিল করার পাশাপাশি ষষ্ঠ থেকে এর ওপরের গ্রেডের কর্মকর্তা এবং ককপিট

ও কেবিন ক্রুদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ

হারে কাটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে বিমানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ৬২৮ কোটি টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন।

চিঠিতে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বিমানের ক্ষতির কারণগুলো তুলে ধরেন তিনি। সেখানে বলা হয়, গত দুই মাসে ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রী না থাকায় ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের কোনো ধরনের চার্জ না কেটেই টিকিটের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে হাতে নগদ অর্থ না থাকায় এপ্রিলে কর্মীদের বেতন দেয়াসহ নানা নিয়মিত ব্যয় চালাতে সংস্থাটির ৬২৮ কোটি টাকা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ১৬টি দেশ হচ্ছে বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য।

এসব দেশ থেকে কোনো ফ্লাইট বাংলাদেশে অবতরণ করতে পারবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও এসব দেশে কোনো ফ্লাইট যেতে পারবে না। আন্তর্জাতিক এসব রুটে পরিচালিত ফ্লাইটের অধিকাংশই বিমানের।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.