রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় রুশ কার্গো বিমান
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছে রাশিয়ার একটি বিশেষায়িত কার্গো বিমান।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছেছে রাশিয়ার একটি বিশেষায়িত কার্গো বিমান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার এভিয়াকন জিট্রান্স পরিচালিত এজেডএস-৬৭১৩ ফ্লাইটটি রাশিয়া থেকে ভারতের দিল্লি হয়ে ঢাকায় আসে। বিমানটিতে মোট ১২টি টিপিএসে ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি বহন করা হয়েছে। জ্বালানির এই চালান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও কার্যক্রমের জন্য রাশিয়া থেকে ধাপে ধাপে পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। এর আগেও কয়েক দফায় এ ধরনের জ্বালানির চালান দেশে পৌঁছেছে। নতুন চালানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ।
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ইউনিটের কার্যক্রমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে কয়েকটি চালানে এ জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছিল, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েকটি চালানে বাংলাদেশে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় নতুন চালানটি ঢাকায় পৌঁছাল।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে পরিবহন, নিরাপত্তা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জ্বালানি বিশেষ ব্যবস্থায় পরিবহন করা হয় এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও কারিগরি নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।
রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকায় কেন্দ্রটির পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে ইউনিটটির কার্যক্রম শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং জ্বালানি ব্যবহারের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
