লিবিয়ার আকাশসীমায় ফিরছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল

দীর্ঘ ১১ বছর পর লিবিয়ার আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর লিবিয়ার আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লিবিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৫ সালে গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) এসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। গত ২৩ অক্টোবর বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

লিবিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের শীতকালীন মৌসুমে প্রতি মাসে দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য ৬১ হাজার ৯৬৮টি ফ্লাইটের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অথচ আগের শীতকালীন মৌসুমে প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ২ হাজার ফ্লাইট লিবিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করত। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশটির ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নতুন রুট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আকাশসীমা ব্যবহারের ফি থেকে লিবিয়ার রাজস্ব আয় বাড়বে বলে আশা করছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়।

বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আইসিএওর ১৯৩টি সদস্যদেশের কাছে এ বিষয়ে তথ্য পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নতুন পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

লিবিয়ায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সশস্ত্র সংঘাতের কারণে দেশটির বিমান চলাচল খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে দেশটির তৎকালীন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর অস্থিতিশীলতা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। ওই সময় ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা ও সংঘর্ষে এয়ারবাসসহ প্রায় ২০টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এরপর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটি পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক দুটি প্রশাসনে বিভক্ত হয়ে পড়ে। নিরাপত্তাঝুঁকি ও রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব পড়ে বিমানবন্দর পরিচালনা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে। ফলে লিবিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার ও দেশটিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা সীমিত হয়ে যায়।

বর্তমানে সীমিতসংখ্যক বিমান সংস্থা লিবিয়ায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে। দেশটি থেকে মূলত তিউনিসিয়া, জর্ডান, তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও সুদানে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের পথ তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার লিবিয়ার বিমান চলাচল খাত পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্ষমতা এবং বিমান সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ওপর। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়লে দেশটির পরিবহন খাত ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.