প্রথম দুইদিন কিছুটা ভোগান্তি থাকলেও তৃতীয় দিন সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেশ স্বস্তির সঙ্গে দেশে ফিরেছেন হাজিরা। তবে ভোগান্তি যাই হোক, হাজিদের একটিই কথা- ‘সোনার মদিনা না দেখে কেউ যেনো কবরে না যায়’। এসব হাজিরা বাংলাদেশ সরকার ও রাজকীয় সৌদি সরকারের মেহমানদারির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিমানবন্দরের তথ্যকেন্দ্র থেকে জানা গেছে, প্রথম তিন দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমান ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন মোট ৭ হাজার ৪১৮ জন হাজি।
এসব যাত্রীদের নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ বিমানের ৮টি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৪টি ফ্লাইট। বিমানের ৮ ফ্লাইটে সোমবার রাত পর্যন্ত ২ হাজার ৮৭১ জন এবং সৌদিয়ার ১৪টি ফ্লাইটে ৪ হাজার ৫৪৭ জন হাজি সুষ্ঠুভাবে দেশের মাটিতে এসে পৌঁছান।
বিমানবন্দরের তথ্য কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, সোমবার বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৬০১৪ সকাল দশটায় ও বিজি ০৪০ ফ্লাইট বেলা ৩টায় এসে পৌঁছায় শাহজালালে। বিজি ২০১৬ সন্ধ্যা ৬টায় এসে পৌঁছার কথা থাকলেও বিলম্বের কারণে কখন এসে পৌঁছাবে তার সময় নির্ধারিত হয়নি।
সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি ৫৭৩৮ সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে, এসভি ৮০৮ দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে, এসভি ৮০২ বেলা ৩টা ১৮ মিনিটে এবং এসভি ৫১০২ সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে এসে পৌঁছায়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে দেওয়া তথ্যে জানানো হয়, ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানের বিজি ৬০১৬ ফ্লাইট তিন ঘণ্টা দেরিতে রাত সাড়ে ১১টার পরিবর্তে রাত আড়াইটায় জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেড়ে ছাড়া হবে। এছাড়া বিজি ২০১২ ফ্লাইট সাময়িক দেরিতে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে ছাড়া হয়েছে শাহজালালের পথে।
হজ পালন করে দেশে ফিরে আসা লুৎফর রহমান তালুকদার ও তার স্ত্রী নাসরিন পারভীন বলেন, ‘হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও সুন্দর ছিল। আমাদের কোনো কষ্ট হয়নি। বাংলাদেশ সরকার এবং সৌদি সরকারের মেহমানদারিতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট’।
তবে শাহজালালে পৌঁছে বাসায় ফেরার গাড়ির দেরির জন্য এজেন্সি মালিককে দায়ী করেন তারা।
অপেক্ষার কষ্ট তেমন কষ্ট দিচ্ছে না উল্লেখ করে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই বলেন, ‘সুষ্ঠু ও সুন্দরমতো পবিত্র হজ করে ফিরেছি। এখন আর এ কষ্ট তেমন মনে হচ্ছে না’।
নাসরিন পারভীন বলেন, দুই সরকারের আপ্যায়নই ভালো ছিল। দেশের প্রত্যেক মানুষই যেনো হজ করতে পারেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সোনার মদিনা না দেখে কেউ যেনো কবরে না যায়’।
যশোর শহরের মার্কাজ মহল্লার শেখ জিল্লুর রহমান স্ত্রী জান্নাতুন নাহারকে নিয়ে হজে যান। সুষ্ঠুভাবে হজ পালন এবং দেশে ফিরে এসে যশোর শিক্ষাবোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত সেকশন অফিসার জিল্লুর রহমান ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাজকীয় সৌদি সরকারকে।
ঝিনাইদহের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সৌদি ও বাংলাদেশ সরকারের সুব্যবস্থানায় সুষ্ঠু, সুন্দরভাবে এবং নির্বেঘ্নে হজ শেষে দেশে ফিরে এসেছি’।