ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে কারিগরি সতর্কতা
জার্মানির মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট VN34-কে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর যাত্রীদের সহায়তা অব্যাহত রেখেছে বিমান সংস্থাটি।
জার্মানির মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট VN34-কে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর যাত্রীদের সহায়তা অব্যাহত রেখেছে বিমান সংস্থাটি। ১৫ আগস্ট ২০২৬-এর এ ঘটনায় উড়োজাহাজের লেজ রানওয়েতে ঘষা লাগার সতর্কতা এবং টায়ারের চাপসংক্রান্ত সতর্কতা দেখা দেওয়ার পর ফ্লাইটটি মিউনিখ বিমানবন্দরে ফিরে আসে। এতে ২৭১ জন যাত্রী ও ১৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের সবাই নিরাপদে আছেন এবং কেউ আহত হননি।
ভিয়েতনাম বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেশটির নির্মাণ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হ্যানয়ের নোই বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে নির্ধারিত ফ্লাইট VN34 স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৭ মিনিটে মিউনিখ থেকে উড্ডয়ন করে।
উড্ডয়নের পরপরই বিমানের লেজ রানওয়েতে ঘষা লাগা এবং টায়ারের চাপ নিয়ে সতর্কতা পাওয়া যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ফ্লাইট ক্রু এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে অবহিত করেন। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উড়োজাহাজটি মিউনিখ বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমানটি অবতরণের পর গ্রাউন্ড স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যাত্রীদের নিরাপদে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে টার্মিনালে নেওয়া হয়। পরে বিমানটিকে একটি পার্কিং এলাকায় নিয়ে গিয়ে কারিগরি পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্তের প্রস্তুতি শুরু হয়।
ঘটনার পর যাত্রীদের বিকল্প ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেয় ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স। ১৬ আগস্ট বিকালের মধ্যে সব যাত্রীকে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স ও অন্যান্য এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইটে বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। যাদের ভ্রমণসূচি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়েছে, তাদেরও পরিস্থিতি অনুযায়ী সহায়তা করা হয়েছে।
বিকল্প ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের বাসস্থান, খাবার, পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, যাত্রীদের ভ্রমণ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) অ্যানেক্স ১৩ অনুযায়ী, জার্মানির সংশ্লিষ্ট বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের দায়িত্বে রয়েছে। একই সঙ্গে ভিয়েতনামের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও জার্মান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য দ্রুত সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে উড়োজাহাজে থাকা সবাই নিরাপদে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।