বিমানের ভাড়া নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যালকন ২০০০ বিমানের ভাড়া বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যালকন ২০০০ বিমানের ভাড়া বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলীয় কাজে ব্যবহৃত চার্টার্ড ফ্লাইটের জন্য ঘণ্টাপ্রতি অস্বাভাবিক হারে অর্থ পরিশোধ করা হতো। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অর্থ ব্যয়ের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্যালকন ২০০০ বিমানের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছে, মাত্র এক ঘণ্টার উড়ানের জন্য প্রায় ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। আবার ১১ থেকে ১২ ঘণ্টার একটি ফ্লাইটের জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং অর্থ প্রদানের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রতিবেদক। বিশেষ করে একটি বিমানের ভাড়া নির্ধারণে কী ধরনের চুক্তি করা হয়েছিল, উড়ানের প্রকৃত সময় কত ছিল এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এর আগেও দলীয় কাজে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছিল। রাজনৈতিক কর্মসূচি, নির্বাচনী প্রচার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সফরে ভাড়ায় নেওয়া বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিতর্ক নতুন নয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিল থেকে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের জন্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এমনকি কিছু বিমান বা হেলিকপ্টার কেনা এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো ভাড়ায় ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত আর্থিক নথি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি।

এদিকে ফ্যালকন ২০০০ বিমানের ভাড়া বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। অর্থের উৎস, চুক্তির শর্ত, ভাড়া নির্ধারণের পদ্ধতি এবং প্রকৃত ব্যবহারের তথ্য যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আর্থিক নথি যাচাইয়ের পরই প্রকৃত অর্থ ব্যয়, ভাড়ার যৌক্তিকতা এবং কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। ফলে রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের ফলই এ বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.