উত্তর কোরিয়ার বিমানের চেয়েও খারাপ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের লেগ রুম

উত্তর কোরিয়ার জীবনযাত্রার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে খুব একটা ইতিবাচক ধারণা নেই।
দেশটির কঠোর ‘সংবুন’ প্রথা মানুষের সামাজিক মর্যাদা থেকে শুরু করে খাদ্যের রেশন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে।
জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ‘শত্রু শ্রেণি’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে খনি বা খামারে কঠিন শ্রম দিতে বাধ্য হয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিলাসবহুল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার কোরিও (Air Koryo) যাত্রীদের বসার ক্ষেত্রে বেশি আরামদায়ক জায়গা বা লেগ রুম দিচ্ছে।
গবেষণার মূল তথ্যসমূহ:
  • লেগ রুম বা সিট পিচ: গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তাদের দীর্ঘ পাল্লার ইকোনমি ফ্লাইটে গড়ে ৩১ ইঞ্চি লেগ রুম দেয়। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার এয়ার কোরিও দিচ্ছে ৩২ ইঞ্চি। এমনকি নাইজেরিয়ার এয়ার পিস (Air Peace) ৩৩ ইঞ্চি পর্যন্ত লেগ রুম দিচ্ছে।
  • সিট হেলানো (Recline): এয়ার কোরিও’র আসনগুলো ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত পেছনে হেলানো যায়।
  • বিপরীতে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের আসন মাত্র ৩.৮ ডিগ্রি হেলানো সম্ভব।
  • আসনের প্রশস্ততা: একমাত্র আসনের চওড়ার দিক থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ সামান্য এগিয়ে।
  • তাদের আসনের প্রশস্ততা ১৭.১ ইঞ্চি, যেখানে এয়ার কোরিও’র আসন ১৭ ইঞ্চি চওড়া।
এয়ার কোরিও’র পরিচয়:
কিম জং-উনের শাসনাধীন এই এয়ারলাইন্সটি মূলত উত্তর কোরিয়ার বিমান বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
পিয়ংইয়ংয়ের সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এটি বেইজিং, শেনিয়াং এবং ভ্লাদিভোস্টকের মতো হাতেগোনা কয়েকটি রুটে চলে।
এই সংস্থার রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি ‘টুপোলেভ টিইউ-২০৪’ (Tupolev Tu-204) বিমানগুলো মূলত সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়, যার একটি কিম জং-উনের ব্যক্তিগত বিমান হিসেবেও পরিচিত।
সমালোচনা ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের অবস্থান:
সমালোচকরা বলছেন, এই তুলনামূলক চিত্র ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সেবার মানের ক্রমাবনতিকেই ফুটিয়ে তুলছে।
বাজেট এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে গিয়ে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তাদের বিমানে আসনের সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং খাবারের মতো অনেক সৌজন্যমূলক সেবা কমিয়ে দিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিমান ভ্রমণের রেকর্ডধারী ফ্রেড ফিন বলেন, “ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ আগের মতো আর নেই।”
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সেবার মান বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছেন।
তারা নতুন কেবিন, লাউঞ্জ এবং স্টারলিংক ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু করার মাধ্যমে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.