জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি এবং চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে অবশেষে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা ‘স্পিরিট এয়ারলাইন্স’।
দীর্ঘ ৩৪ বছরের পথচলার সমাপ্তি ঘটিয়ে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই সংস্থাটি তাদের সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করেছে।
মূলত ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় জেট ফুয়েলের দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় চরম বিঘ্ন ঘটানোর ফলে গত দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে স্পিরিট এয়ারলাইন্স দ্বিতীয়বারের মতো দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে ব্যর্থ হয়।
শেষ মুহূর্তে অস্তিত্ব রক্ষায় স্পিরিট এয়ারলাইন্স সরকারের কাছে ‘বেইল-আউট’ বা বিশেষ আর্থিক সহায়তার আবেদন করেছিল, কিন্তু ঋণদাতাদের অসম্মতি ও সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় সংস্থাটি আজ তাদের কার্যক্রম বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে স্পিরিটে কর্মরত প্রায় ১৭ হাজার কর্মী তাৎক্ষণিকভাবে বেকার হয়ে পড়েছেন, যা মার্কিন বিমান খাতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ থেকেই সংস্থার সমস্ত ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল করা হয়েছে এবং যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিরিট এয়ারলাইন্সের এই পতন বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আরও অনেক সাশ্রয়ী বিমান সংস্থা একই পরিণতির শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও খবর
