১৪.৫ বিলিয়ন ডলারের বোয়িং চুক্তিতে ২৮টি বিমান কিনছে এতিহাদ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে একাধিক বড় বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে একাধিক বড় বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, যার মোট মূল্য ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত চুক্তি হলো আবুধাবিভিত্তিক জাতীয় এয়ারলাইন Etihad Airways–এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা Boeing এবং ইঞ্জিন নির্মাতা GE Aerospace–এর ১৪.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় উড়োজাহাজ সরবরাহ চুক্তি।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় এতিহাদ মোট ২৮টি ওয়াইডবডি বিমান ক্রয় করবে। এর মধ্যে থাকবে বোয়িংয়ের নতুন প্রজন্মের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং ৭৭৭এক্স সিরিজের বিমান, যেগুলো দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। এসব বিমানে GE Aerospace-এর আধুনিক ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে, যা জ্বালানি সাশ্রয় ও উচ্চ কার্যক্ষমতার জন্য পরিচিত।

এতিহাদ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, নতুন বিমানগুলো ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে তাদের বহরে যুক্ত হবে। এয়ারলাইনটির বর্তমান বহরে প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে। নতুন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা ২০৩০ সালের মধ্যে বহর ১৭০টিরও বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ কৌশলের অংশ, যার মাধ্যমে আবুধাবিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক এভিয়েশন হাব হিসেবে আরও শক্তিশালী করা হবে।

এতিহাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আন্তোনোয়ালদো নেভেস বলেন, এই অর্ডার কোম্পানির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলার কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও জানান, শুধু বহর বৃদ্ধি নয়, বরং যাত্রীসেবা উন্নয়ন, নতুন রুট চালু এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ানোই এই বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই বড় এভিয়েশন চুক্তির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে আরও বহু খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, যার মোট পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এসব চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও উৎপাদন খাতে বড় ধরনের কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এতিহাদের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের এভিয়েশন শিল্পে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে বোয়িংয়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে বড় অর্ডার নিশ্চিত করতে চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল।

অন্যদিকে GE Aerospace-এর জন্যও এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি আয়ের একটি বড় উৎস হিসেবে কাজ করবে, কারণ এই ইঞ্জিনগুলো ভবিষ্যতের বহু বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও সাপোর্ট সার্ভিসের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করবে।

সব মিলিয়ে এই চুক্তি শুধু একটি বিমান ক্রয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কৌশলগত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি বৈশ্বিক বিমান শিল্পে নতুন বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের একটি বড় উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.