আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেও বৈশ্বিক সংযোগ ধরে রেখেছে এমিরেটস-কাতার
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান ও পর্যটন খাত ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ড্রোন-সংক্রান্ত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন ও বিমান পরিবহন পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। বরং তারা এখন কার্যক্রম সচল রাখা, কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থা Emirates এবং Qatar Airways আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেটওয়ার্ক সচল রেখেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ধীরে ধীরে উড়ান পুনরায় চালু করা হয়েছে, যাতে ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই, দোহা ও আবুধাবি এখনো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ যাত্রী চলাচল কেন্দ্র হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোও সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান জনবল ধরে রাখার কৌশল নিয়েছে, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরা যায়। বিমান পরিবহন খাতের কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সক্ষমতা ধরে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পর্যটন খাতও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। Visit Qatar-সহ বিভিন্ন পর্যটন কর্তৃপক্ষ নতুন কৌশল তৈরি করছে, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যটকের ঢল সামাল দেওয়া যায়। মধ্যপ্রাচ্য এখন বিলাসবহুল হোটেল, সাংস্কৃতিক ভ্রমণ, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন এবং ব্যবসায়িক সফরের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
পর্যটননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে উপসাগরীয় দেশগুলো হোটেল, বিনোদন কেন্দ্র, সমুদ্রভ্রমণ টার্মিনাল, সাংস্কৃতিক এলাকা ও আধুনিক অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ করছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে টেকসই পর্যটন অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
তবে এই অগ্রযাত্রার মাঝেও মানবিক উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি আকাশপথে কাজ করা বিমানকর্মীরা মানসিক চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। বিশেষ করে অভিবাসী শ্রমিকরা ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা, স্থানচ্যুতি ও সহায়তার অভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সতর্কতাও পর্যটন খাতে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এতে অবকাশ যাপন ও পারিবারিক ভ্রমণে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ব্যবসায়িক সফর ও যাত্রী চলাচল এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আঞ্চলিক সংকট কেটে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। শক্তিশালী অবকাঠামো, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল আবারও বৈশ্বিক পর্যটনের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তাই বর্তমান সংকটের মধ্যেও গালফ দেশগুলো ভবিষ্যৎ ভ্রমণ চাহিদার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখছে।
