জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইউরোপের নতুন বিমাননীতি ঘোষণা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) জেট ফুয়েল সংকটের সম্ভাবনা থাকলে বিমান চলাচল খাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) জেট ফুয়েল সংকটের সম্ভাবনা থাকলে বিমান চলাচল খাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্রাসেলস থেকে জারি করা নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জ্বালানি স্বল্পতা দেখা দিলে এয়ারলাইন্সগুলোকে সাধারণ “অ্যান্টি-ট্যাংকারিং” এবং স্লট ব্যবহারের কঠোর নিয়ম থেকে সাময়িক ছাড় দেওয়া যেতে পারে। তবে এটি সব পরিস্থিতিতে নয়, কেবল বাস্তব জ্বালানি সংকট দেখা দিলে প্রযোজ্য হবে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, EU-এর ReFuelEU নীতিমালায় সাধারণত বিমানগুলোকে যাত্রার আগে ৯০ শতাংশ জ্বালানি সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থেকেই নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু জ্বালানি সংকট দেখা দিলে এই নিয়ম শিথিল করা যাবে, যাতে নিরাপদ উড্ডয়ন নিশ্চিত করা যায়। তবে শুধু জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না।

ইউরোপীয় কমিশন সদস্য দেশগুলোকে দ্রুত NOTAM (Notice to Air Missions) জারি করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে জ্বালানি ঘাটতি হলে তা দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং এয়ারলাইন্সগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

একই সঙ্গে “স্লট ব্যবহার বা হারানোর নিয়ম” নিয়েও ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এয়ারলাইন্সগুলোকে তাদের নির্ধারিত স্লটের অন্তত ৮০ শতাংশ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু যুদ্ধ, আকাশপথ বন্ধ বা বড় ধরনের সংকটের সময় এই নিয়ম সাময়িকভাবে স্থগিত করা যেতে পারে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, সামরিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি সংকট হলে সেটি বড় ধরনের ব্যাঘাত হিসেবে গণ্য হবে।

তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই এই ছাড়ের কারণ হতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের অধিকার পুরোপুরি বাতিল হবে না—এয়ারলাইন্সকে খাবার, আবাসন ও বিকল্প ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের বিমান খাতে সংকটকালীন স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে, তবে একই সঙ্গে যাত্রী সুরক্ষা আইন কঠোরভাবে বহাল থাকবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.