স্টারলিংক আনছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স তাদের বহরে স্টারলিংক (Starlink) স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স তাদের বহরে স্টারলিংক (Starlink) স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা ২০২৭ সালের প্রথম দিক থেকে চালু হবে। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রীরা উড্ডয়ন থেকে অবতরণ পর্যন্ত দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাবেন, যা বর্তমান জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট ভিত্তিক ওয়াই-ফাইয়ের তুলনায় অনেক উন্নত। এই ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এলএইচ, এ৩৫০-৯০০ ইউএলআর এবং এ৩৮০-৮০০ বিমানে স্টারলিংক স্থাপন করা হবে।
বর্তমানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ইনফ্লাইট ওয়াই-ফাই প্যানাসনিক এবং SITAOnAir প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, যা সাধারণ ব্রাউজিং ও ইমেইলের জন্য যথেষ্ট হলেও ভারী ডাটা ব্যবহার, ভিডিও স্ট্রিমিং বা উচ্চগতির সংযোগে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া এই পুরোনো সিস্টেম কেবল ক্রুজিং উচ্চতায় কাজ করে, ফলে টেকঅফ ও ল্যান্ডিংয়ের সময় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকে।
স্টারলিংক প্রযুক্তি লো আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট ব্যবহার করে, যা উচ্চগতির এবং কম ল্যাটেন্সির ইন্টারনেট প্রদান করে। এর ফলে আকাশে থাকা অবস্থাতেও হোম ব্রডব্যান্ডের মতো অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব হবে। যাত্রীরা 4K ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং, ক্লাউড কাজ এবং এমনকি রিয়েল-টাইম অ্যাপ্লিকেশনও ব্যবহার করতে পারবেন।
তবে এই প্রকল্প নিয়ে কিছু সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই বলছেন, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এই পরিকল্পনা সময় ও পরিসরের দিক থেকে কিছুটা ধীরগতির এবং সীমিত। কারণ প্রথম ধাপে মাত্র ৫৩টি বিমান এই প্রযুক্তি পাবে, যা মোট বহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বিশেষ করে বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স, ৭৮৭-১০ এবং কিছু মধ্যম দূরত্বের এয়ারবাস মডেল এই পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয় বড় ভূমিকা রাখছে। ভারত, চীন এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশ এখনো স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি বা সীমিত পর্যায়ে দিয়েছে। ফলে এই রুটগুলোতে স্টারলিংক ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চীনের নিরাপত্তা উদ্বেগ, যেখানে স্টারলিংককে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়। ফলে চীনা আকাশসীমা ব্যবহার করা রুটগুলোতে এই প্রযুক্তি বাধার মুখে পড়তে পারে। তাই কিছু বিমানকে স্টারলিংক ছাড়া রাখা হয়েছে যাতে ফ্লাইট নেটওয়ার্ক পরিচালনায় জটিলতা না হয়।
তবে সমালোচনার সবচেয়ে বড় অংশ হলো এর বাস্তবায়নের ধীরগতি। কাতার এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং এমিরেটস তুলনামূলক দ্রুতগতিতে শতাধিক বিমানকে স্টারলিংক সেবায় যুক্ত করছে। সেখানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ২০২৯ সালের মধ্যে মাত্র ৫৩টি বিমান আপগ্রেড করার লক্ষ্য নিয়েছে।
এয়ারলাইনটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সময়সূচি মূলত রক্ষণাবেক্ষণ চক্র ও কেবিন আপগ্রেডের সঙ্গে মিলিয়ে করা হচ্ছে। কারণ প্রতিটি বিমানকে আলাদাভাবে সার্ভিসে নিয়ে গিয়ে সিস্টেম পরিবর্তন করা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
সব মিলিয়ে, স্টারলিংক চালু করা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের জন্য একটি বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হলেও এর বাস্তবায়ন ধীরগতির হওয়ায় কিছু প্রশ্ন উঠেছে। তবে সম্পূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি আকাশপথে যাত্রীসেবার অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
