জাপানের হাতে শাহজালাল থার্ড টার্মিনালের ৭৩ শতাংশ রাজস্ব, বাংলাদেশের ভাগ ২৭
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পথে। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, টার্মিনালের চারটি প্রধান খাত থেকে আদায় হওয়া রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং বাকি ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও জাপানি পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছে। আগামী ১৭ মে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) জমা দেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। নিয়ম অনুযায়ী, এরপর ৪২ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হতে পারে। সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
জানা গেছে, অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হলেও পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, আয় বণ্টন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে টার্মিনাল চালুতে বিলম্ব হয়। সম্প্রতি জাপানি পক্ষের পাওনা অর্থ পরিশোধসহ বিভিন্ন জটিলতা নিরসনের পর আবারও আলোচনায় গতি আসে।
চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুযায়ী, এমবার্কেশন ফি, দোকান ও লাউঞ্জ ভাড়া, কার্গো হ্যান্ডেলিং চার্জ এবং কার পার্কিং ভাড়া—এই চারটি খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব থাকবে জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে। এসব খাতের আয়ের বড় অংশই পাবে তারা।
তবে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ওভারফ্লাইং চার্জ, বিমান অবতরণ ফি, কাস্টমস, নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম। ফলে কৌশলগত ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ সরকারের কাছেই থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নীতিনির্ধারকদের মতে, জাইকার ঋণ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একাধিক দফা দরকষাকষির পর এ কাঠামোতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। জাপানি কনসোর্টিয়াম বিশ্বমানের ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, কার্গো সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছে।
এ বিষয়ে বেবিচক সদস্য (অপারেশন) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, “সবকিছু প্রায় চূড়ান্ত। আগামী ১৭ মে আরএফপি দেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী ৪২ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।”
