শাহজালালের আদলে হচ্ছে বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

থাকবে ১০৫০০ ফুট রানওয়ে, দৃষ্টিনন্দক টার্মিনাল ভবন, বিমানঘাঁটি ও ফ্লাইং একাডেমি

শাহজালালের আদলে গড়ে উঠছে বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

বিশেষ প্রতিনিধি : উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এবার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে বগুড়ায় নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে দেশের পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

প্রস্তাবিত বিমানবন্দরে থাকবে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে, আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা, আধুনিক টার্মিনাল ভবন, বৃহৎ বিমানঘাঁটি এবং আন্তর্জাতিক মানের ফ্লাইং একাডেমি। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, শিল্প, পর্যটন ও রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার এবং বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উত্তরাঞ্চলকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিমানবন্দরে এমন রানওয়ে নির্মাণ করা হবে যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বড় উড়োজাহাজ সহজেই ওঠানামা করতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্য রপ্তানিতে গতি আসবে।

বর্তমানে বগুড়া বিমানবন্দরটি সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত হলেও সরকারের মহাপরিকল্পনায় এটিকে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। প্রথম ধাপে নতুন রানওয়ে নির্মাণ ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হবে। ভবিষ্যতে দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৩ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। এতে কিছু কৃষিজমি ও বসতবাড়ি অধিগ্রহণের আওতায় আসলেও ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বুয়েটকে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পর্যটন ও এভিয়েশন খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.