দীর্ঘ পাল্লার লক্ষ্য নিয়ে আসছে এমএস-২১-২১০, উন্নয়নে বড় চুক্তি
রাশিয়ার বেসামরিক বিমান শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমএস-২১ যাত্রীবাহী বিমানের একটি ছোট আকারের সংস্করণ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে
রাশিয়ার বেসামরিক বিমান শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমএস-২১ যাত্রীবাহী বিমানের একটি ছোট আকারের সংস্করণ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়টি বিমান নির্মাতা ইয়াকভলেভ কর্পোরেশনের সঙ্গে ১৯.৭ বিলিয়ন রুবল মূল্যের একটি গবেষণা ও উন্নয়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। নতুন এই বিমানের অস্থায়ী নাম দেওয়া হয়েছে এমএস-২১-২১০।
নতুন মডেলটি বর্তমানে উন্নয়নাধীন এমএস-২১-৩১০ বিমানের সংক্ষিপ্ত ফিউজলেজ সংস্করণ হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি আকারে ছোট হলেও তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ পাল্লার সক্ষমতা অর্জন করবে। বিমানটির ওজন কমানোর জন্য ইঞ্জিন সাপোর্ট স্ট্রাকচার, বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ উপাদানে পরিবর্তন আনা হবে। রুশ সরকারের দরপত্রসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করতে হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোটোটাইপ নির্মাণ এবং প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তি কর্পোরেশন রোস্টেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সের্গেই চেমেজভ জানিয়েছেন, এমএস-২১-২১০ মডেলটি প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম হবে। রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মানতুরভের মতে, এই প্রকল্পটি দেশটির বিমান শিল্পে “আমদানি প্রতিস্থাপন” নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদেশি যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর বিমান তৈরির প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই নতুন সংস্করণটির উন্নয়ন করা হচ্ছে।
মূল এমএস-২১-৩১০ প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। তবে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিদেশি অংশীদাররা প্রকল্প থেকে সরে যায়। এর ফলে রাশিয়াকে নিজস্ব প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে বিমানটির নতুন সংস্করণ তৈরি করতে হয়। কিন্তু দেশীয় বিকল্প ব্যবহারের কারণে বিমানটির ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা পরিকল্পিত ৫,১০০ কিলোমিটার পাল্লা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে। বর্তমানে ১৭৫ জন যাত্রী নিয়ে দুই-শ্রেণির বিন্যাসে এমএস-২১-৩১০-এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ৩,৮৩০ কিলোমিটার।
প্রসঙ্গত, এমএস-২১ কর্মসূচির শুরুতে তিনটি ভিন্ন সংস্করণের পরিকল্পনা ছিল—১৫০ আসনের এমএস-২১-২০০, ১৮০ আসনের এমএস-২১-৩০০ এবং ২১০ আসনের এমএস-২১-৪০০। তবে পরবর্তীতে ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন এমএস-২১-৩০০ সংস্করণকে অগ্রাধিকার দেয়। এখন নতুন এমএস-২১-২১০ প্রকল্পের মাধ্যমে সেই পুরোনো পরিকল্পনার একটি অংশ নতুনভাবে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। রাশিয়ার আশা, ২০২৭ সালের মধ্যে এমএস-২১-৩১০-এর ফ্লাইট পরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৩৬টি এমএস-২১ বিমান উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
